গডজিলা ভার্সেস কং’ অভিনেত্রী কেলি হটল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ অভিনেত্রী কেলি হটল, যিনি Godzilla vs. Kong চলচ্চিত্র সিরিজে অভিনয় করে পরিচিতি পান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স…
মেলবোর্ন ১৭ নভেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সতর্ক করে বলেছেন, তার মায়ের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সম্ভবত কঠোরতম রায় দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আগামী বছরের নির্বাচন অসম্ভব, এবং তাদের সমর্থকেরা নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার মতো আন্দোলনে যাবে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয় এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি দেওয়া হয় ঠিক একদিন আগে, যখন ২০২৪ সালের বিক্ষোভ দমনে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার টেলিভিশন সম্প্রচারিত রায় ঘোষণার কথা।
জয় বলেন,
“আমরা জানি রায় কী হবে। রায় টেলিভিশনে দেখানো হবে। তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে- এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার মা এখন নিরাপদ স্থানে আছেন এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তায় আছেন।”
৭৮ বছর বয়সী হাসিনা গত বছরের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর দেশ ছাড়েন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের বিক্ষোভে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। সেই অভিযানে ভূমিকার অভিযোগেই বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে তার বিচার চলছে। হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, আওয়ামী লীগ- স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রধান ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তি। নিষিদ্ধ অব্যাহত থাকলে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করবেন তারা।
তার ভাষায়:
“আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে- যা করার লাগে আমরা করব।”
তিনি আরও বলেন,
“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়বে-এটা প্রায় নিশ্চিত।”
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে এবং নিরাপত্তা ও তদন্তজনিত কারণ দেখিয়ে তাদের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় বলেন,
“নিষেধাজ্ঞা উঠতেই হবে। নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু। এখন যা চলছে, তা আমাদের নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা।”
রায় ঘোষণার আগেই রাজধানী ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা ব্যাপক আকার নিয়েছে।
রবিবার শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগের দিন ১২ নভেম্বর মাত্র একদিনেই ৩২টি বিস্ফোরণ নথিভুক্ত হয়।
ডজনাধিক বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে; নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের স্কুলগুলো গত সপ্তাহ থেকে অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে।
নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ৪০০–এর বেশি বর্ডার গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, চেকপোস্ট শক্ত করা হয়েছে এবং গণজমায়েতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান আলজাজিরাকে বলেন:
“হাসিনা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তিনি দূরবর্তী স্থান থেকে অনলাইনে বক্তব্য দিলেও দেশে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা তৈরি হয়।”
তার মতে,
“হাসিনার ছেলে যখন সরাসরি নির্বাচন ঠেকানোর হুমকি দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে আগামী নির্বাচনে সহিংসতা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।”
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে অন্তত ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে; যদিও বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ড. ইউনুস ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট গ্রহণ করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au