বিদায়ের সুরে বিষণ্ন দশমী, আগামী শরতে ফেরার অপেক্ষা
আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উৎসবের রঙ আর বিদায়ের বিষণ্নতা মিশ্রিত আবহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর)…
মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ডোমেইন–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে এখন অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজধানী শহর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে গড় বাড়ির দাম এক মিলিয়ন ডলারের বেশি। একই সঙ্গে মেলবোর্নের আবাসন বাজার দীর্ঘ স্থবিরতার পর ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডোমেইনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী শহরগুলোতে বাড়ির গড় দাম সম্মিলিতভাবে বেড়েছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ফ্ল্যাট বা ইউনিটের গড় দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ডিসেম্বর প্রান্তিকে মেলবোর্নে বাড়ির দাম শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, আর পার্থে দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রথমবারের মতো এক মিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
ডোমেইনের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হাউস রিপোর্ট বলছে, দেশজুড়ে টানা ১২টি প্রান্তিকে বাড়ির দাম বেড়েছে। এটি ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্ন এখন আবার স্থায়ী প্রবৃদ্ধির পথে ফিরেছে। ২০২৫ সালে শহরটিতে বাড়ির দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং চার বছর পর নতুন রেকর্ড গড়েছে।
এদিকে, সিডনির আবাসন বাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই বছরের মধ্যেই সিডনিতে গড় বাড়ির দাম দুই মিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে।
ডোমেইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যানবেরা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজধানী শহরেই এখন বাড়ির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ২০২৫ সালে দেশজুড়ে বাড়ির দাম মোট ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে গড়ে এক লাখ ১১ হাজার ৭২৮ ডলার যোগ হয়েছে। এর ফলে পার্থ প্রথমবারের মতো ‘এক মিলিয়ন ডলার ক্লাব’-এ যোগ দিয়েছে। এর আগে থেকেই এই তালিকায় ছিল সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড ও ক্যানবেরা।
ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে ডিসেম্বর প্রান্তিকে গড় বাড়ির দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থমূল্যে যা প্রায় ৩১ হাজার ৬১৪ ডলার। এতে শহরটির গড় বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ১১ হাজার ৮৪ ডলারে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেডে বছরে বাড়ির দাম দ্বিঅঙ্কের হারে বেড়েছে। ব্রিসবেনে এই প্রবৃদ্ধিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছে ডোমেইন। ডিসেম্বর প্রান্তিকে সেখানে দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরো বছরে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে ব্রিসবেনে এখন গড় বাড়ির দাম ১১ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৯ ডলার।
২০২৫ সালে এক মিলিয়ন ডলার ক্লাবে যোগ দেওয়া অ্যাডিলেডে এখন গড় বাড়ির দাম ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৭ ডলার। ডিসেম্বর ২০২৪ সালে যা ছিল ৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৭৪ ডলার। মাত্র তিন মাসেই সেখানে দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ এবং বছরে বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
ডারউইনে বাড়ির দাম সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। সেখানে বছরে দাম লাফিয়ে বেড়েছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে শহরটির গড় বাড়ির দাম দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৯৬ ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮১ ডলার।
অন্যদিকে, সিডনিতে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে বেড়েছে। ডিসেম্বর প্রান্তিকে সেখানে দাম বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ এবং বছরে বেড়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ফ্ল্যাটের বাজারে কিছুটা গতি ফিরেছে। বছরে ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, আর শেষ তিন মাসে বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। ডোমেইনের মতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সিডনির ইউনিট বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি।
ডোমেইনের গবেষণা ও অর্থনীতি বিভাগের প্রধান নিকোলা পাওয়েল বলেন, ক্রেতারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের খোঁজে সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে ফ্ল্যাটের দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে পার্থ ও অ্যাডিলেড বাড়ির দামে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। তার ভাষায়, আবাসন বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী হলেও সব শহরে একই গতিতে দাম বাড়ছে না।
ক্যানবেরা ছিল একমাত্র শহর, যেখানে ডিসেম্বর প্রান্তিকে ফ্ল্যাটের দাম কমেছে। সেখানে ইউনিটের গড় দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১১ হাজার ৪৬৬ ডলারে। তবে একই সময়ে ক্যানবেরায় বাড়ির গড় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রায় ১৪ লাখ ডলারের কাছাকাছি এবং দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী শহরগুলোতে ফ্ল্যাটের সম্মিলিত গড় দাম ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২২ হাজার ৮১১ ডলারে। এটি এক বছর আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
নিকোলা পাওয়েল বলেন, ২০২৫ সালে সুদের হার তিন দফা কমায় মানুষের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকা, শ্রমবাজার শক্ত থাকা এবং মজুরি বৃদ্ধিও বাজারকে চাঙা রেখেছে। গত অক্টোবরে গৃহঋণ নিশ্চয়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের ফলে ক্রেতাদের আস্থাও বেড়েছে।
সিডনি এখনও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার। তুলনামূলক ধীরগতির মধ্যেও ডিসেম্বর প্রান্তিকে সেখানে গড় বাড়ির দামে আরও ৩৪ হাজার ১৭৭ ডলার যোগ হয়েছে। ফলে গড় দাম প্রায় ১৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সিডনির গড় ফ্ল্যাটের দাম ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯০ ডলার, যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রিসবেনের চেয়ে এক লাখ ডলারেরও বেশি।
নিকোলা পাওয়েলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজারের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যেই সিডনিতে গড় বাড়ির দাম দুই মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
পার্থের উত্থানকে ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। তার মতে, ২০১৯ সালে পার্থের বাড়ির দাম মেলবোর্নের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম ছিল। এখন সেই ব্যবধান কমে মাত্র ২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে পার্থে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বিদেশি অভিবাসনের পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকেও মানুষের আসা বড় কারণ।
তিনি বলেন, এক সময় পার্থ ও অ্যাডিলেডকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী শহর বলা হতো। কিন্তু গত এক বছরে দুটিই এক মিলিয়ন ডলার ক্লাবে যোগ দেওয়ায় এখন আর সেই তকমা দেওয়া কঠিন।
ব্রিসবেনের বাজার নিয়ে আশাবাদী নিকোলা পাওয়েল জানান, ২০৩২ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে সেখানে অবকাঠামো বিনিয়োগ বাড়ছে। ভাড়া বাজার চাপের মধ্যে থাকায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্রিসবেনে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালে সুদের হার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস থাকায় কিছু শহরে দামের গতি শ্লথ হতে পারে।
সূত্রঃঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au