এবার জার্মানিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থীদের
জার্মানিতে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থী…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বাংলাদেশকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চেয়েছে ঢাকা। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।
২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ফার্স্টপোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, পবিত্র নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার ও পরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি ঠিক কী ছিল, কোন মসজিদে ঘটেছিল কিংবা কবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে ওই বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে ফার্স্টপোস্ট উল্লেখ করেছে।
চুম্বনের দাবি নিশ্চিত নয়
কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে চুম্বনের অভিযোগে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কোথাও কপালে চুম্বনের কথাও বলা হয়েছে। তবে সংযুক্ত প্রতিবেদনে এসব দাবির পক্ষে আদালতের রায় বা অন্য কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে শুধু চুম্বনের কারণেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
একইভাবে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক যুগল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সম্পর্কের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। নজরুলের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং সিতি সম্পর্কে পরিবারকে কখনো কিছু জানাননি।
পরিবারের দাবি, ফাঁসানো হয়েছে
প্রথম আলোর বরাত দিয়ে ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, ২৫ বছর বয়সী নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একটি গ্রামে। প্রায় চার বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান এবং মক্কার মসজিদুল হারামে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় আট মাস পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় এক মাস পর তাঁরা গ্রেপ্তারের খবর পান। কারাবন্দি অবস্থায় মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পেতেন নজরুল।
সর্বশেষ ১১ অক্টোবর পরিবারের সঙ্গে প্রায় আড়াই মিনিট কথা হয় তাঁর। পরে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সৌদি আরব থেকে ফোন করে পরিবারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নজরুলের দুই স্বজনের দাবি, কর্মস্থলে এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়েছিল। তাঁদের সন্দেহ, সেই বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
অন্যদিকে সিতির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে বলে জানানো হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের বরাত দিয়ে ফার্স্টপোস্ট লিখেছে, অন্য নারী কর্মীদের সঙ্গে বিরোধের পর তাঁকে ফাঁসানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের এই দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
রায়ের অনুলিপি ও ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ
ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা। সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে বিষয়টি জানার পর বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের রায়ের অনুলিপি, অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ এবং মিশনকে অবহিত না করার ব্যাখ্যা চেয়েছে।
প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি কখন ও কীভাবে ঘটেছে, সে সম্পর্কে মিশনকে জানানো হয়নি। সৌদি সরকারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনার কারণ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং দণ্ড কার্যকরের আগে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আদালতের নথি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়া অভিযোগের প্রকৃতি কিংবা পরিবারের দাবির যথার্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট, ২১ অক্টোবর ২০২৬; সংযুক্ত প্রতিবেদনের তথ্য অবলম্বনে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au