মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর মঙ্গলবার দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। বিকেল ৪টা ৭ মিনিটে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে শেষ হয় ৪টা ৩০ মিনিটে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
তবে পুরো আয়োজনজুড়ে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার সময় রাষ্ট্রপতিকে একবারও ‘মহামান্য’ সম্বোধন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন পর্যায়ে ‘রাষ্ট্রপতি মহোদয়’ এবং দুইবার ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন এবং সংবিধান ও অন্যান্য আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করেন। ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কেও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
সংবিধানে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ সম্ভাষণ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে দীর্ঘদিনের শিষ্টাচার ও প্রতিষ্ঠিত রীতির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ সম্বোধন ব্যবহার হয়ে আসছে। রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদধারী হওয়ায় এ সম্ভাষণকে অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক সম্মানের অংশ হিসেবে দেখেন।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে একাধিকবার ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ বিশেষণ অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি সচেতন সিদ্ধান্ত নাকি অনিচ্ছাকৃত বাদ পড়া, সে প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট না হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে রীতির অনুসরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।