শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশসেবা করতে চান, অবসরের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনই রাজনীতি থেকে অবসরের কথা ভাবছেন না, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশ ও দেশের মানুষের সেবায়…
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে থানার ভেতরেই এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর রাতে ওই নারী অভিযোগ জানাতে গামহারিয়া থানায় যান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ওই নারী অভিযোগে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে ওই রাতেই পুলিশের একটি টহল দল তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বিশ্রামের জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থা করে দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই কক্ষে অবস্থানের সময় থানার ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত এক কনস্টেবল তাঁর ওপর হামলে পড়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনাটি জানার পর সেরাইকেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসপি) মনোজ স্বর্গিয়ারী তদন্তের নির্দেশ দেন। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গামহারিয়া থানার ওসি এবং আরও চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন এসপি। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া পাঁচ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সময় অভিযুক্ত কনস্টেবল যে পোশাক পরেছিলেন, সেটিও আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। পরীক্ষার জন্য পোশাকটি রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। দলটির অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি না থাকায় ঝাড়খণ্ডে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
ঝাড়খণ্ড রাজ্য বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য আদিত্য সাহু অভিযোগ করেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পুলিশ সদস্যরা থানায় পদায়ন পান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও দাবি করেন, এসব পুলিশ কর্মকর্তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আশ্রয়ে বালু, লৌহ আকরিক ও কয়লা চুরির সুযোগ করে দিচ্ছেন।
সাহুর ভাষ্য, এসব কারণেই রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au