এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। সেখানে তিনি দাবি করেন, মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং দেবিদ্বারের হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দের আওতায় বিভিন্ন উপজেলার মতো মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এসব অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ নথিপত্র সরকারি রেকর্ডে সংরক্ষিত রয়েছে।
ফেসবুক লাইভে আসিফ মাহমুদ বলেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া বিশেষ বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহও অভিযোগের জবাবে বলেন, তিনি ১০ কোটি টাকা নয়, দেবিদ্বার উপজেলার জন্য ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যা স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের আওতায় দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে নয় এবং ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছে যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত বলেন, ওই অর্থ ৪২টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এটিকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

ছবিঃ সংগৃহীত
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়। তার ভাষ্য, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দকে ব্যক্তিগত অর্থ গ্রহণের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
এদিকে বিতর্কের মুখে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াও পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, রাজস্ব তহবিল কিংবা বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ, উভয়ই সরকারি অর্থ। তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই বিতর্ক স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তবে প্রকৃত তথ্য ও সরকারি নথির ভিত্তিতে তদন্তের ফলাফলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au