এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ক্রমেই নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশল প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে। ড্রোন, বিস্ফোরকবাহী রোবট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে ইউক্রেন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছে, যা রাশিয়ার জন্য ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউক্রেনের অনেক সামরিক অভিযান এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে কোনো সৈন্যকে সরাসরি শত্রুপক্ষের সামনে যেতে হচ্ছে না। বিস্ফোরক বহনকারী রোবট রুশ অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, আকাশে নজরদারি চালাচ্ছে ড্রোন, আর নিরাপদ দূরত্বে থাকা অপারেটররা পুরো অভিযান নিয়ন্ত্রণ করছেন।
দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, জনবল সংকট এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ইউক্রেন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে তুলনামূলকভাবে বড় ও শক্তিশালী রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে কিয়েভ।
গত এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে একটি রুশ সামরিক অবস্থান দখল করতে পেরেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তিনি জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে ইউক্রেন ২২ হাজারের বেশি মানববিহীন সামরিক মিশন পরিচালনা করেছে।
ইউক্রেনীয় সেনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ সেনারা বিস্ফোরকবাহী রোবটগুলোর নাম দিয়েছে ‘সাইলেন্ট ডেথ’ বা ‘নীরব মৃত্যু’। কারণ এসব রোবট অত্যন্ত নিঃশব্দে চলতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে পৌঁছানোর আগে তাদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগও অনেক সময় থাকে না।
পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করা এক ইউক্রেনীয় ডেপুটি কমান্ডার বলেন, কয়েক বছর আগেও এমন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কল্পনা করা কঠিন ছিল। তার মতে, এই প্রযুক্তি আগে থাকলে বহু সেনার প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, আগে যুদ্ধের সাফল্য নির্ভর করত সৈন্যদের সাহস, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ওপর। এখন প্রযুক্তি যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করছে এবং এই পরিবর্তন আর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হলো প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে হতাহত বা যুদ্ধের বাইরে রাখতে সক্ষম হওয়া। তাদের দাবি, চলতি বছরে সেই লক্ষ্য অনেকাংশে অর্জিত হয়েছে। এর ফলে রাশিয়াকে আরও বেশি সেনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নিহত সদস্যের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইউক্রেন শুধু হামলার জন্য নয়, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া, সামনের সারিতে অস্ত্র ও খাদ্য সরবরাহ এবং নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি কমিয়ে ঝুঁকি হ্রাস করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন শুধু ভূখণ্ড দখলের লড়াই নয়; এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রযুক্তি ও সামরিক কৌশলেরও একটি বাস্তব পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ব্যবহার ভবিষ্যতের বৈশ্বিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au