‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয়’, মৃত্যুদণ্ডের আগে নজরুলের সেই আক্ষেপ
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ নজরুল ইসলাম মাহিন। কিন্তু পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করার স্বপ্ন নিয়ে…
ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
ভিয়েতনাম ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশের একটি। ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের মূল স্লোগান ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকে এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই দুই দেশের এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভারত ও ভিয়েতনামের সহযোগিতা শুধু ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন নতুন ও উদীয়মান খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন মঞ্চেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব ভিয়েতনাম জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে ভারত ও ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে হ্যানয়। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির।
ব্রিকস সম্মেলনে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভিয়েতনামের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে গত মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত সফর করেন। ওই সফরে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করতে সম্মত হয়। দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত সমন্বয় এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছাকে আরও দৃশ্যমান সহযোগিতায় রূপ দেওয়া।
এর ফলে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ভিয়েতনামের সহযোগিতা আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
লে মিন হুংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বিভাজন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের সময়ে ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব নিয়েছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের অন্যতম লক্ষ্য হলো সম্প্রসারিত সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তব ফলাফল তৈরি করা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এগুলো হলো ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে জোটটির অংশীদার দেশ রয়েছে ১০টি। সেগুলো হলো নাইজেরিয়া, বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।
নয়াদিল্লিতে এবারের সম্মেলনকে ঘিরে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে অংশীদার দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au