দুই বছর ধরে কারাগারে শ্যামল দত্তসহ সাংবাদিকরা, মুক্তির দাবি
দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ কয়েকজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বা তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন বর্তমান নির্বাচিত নেতারা। এই অতিরিক্ত সময়ে তাঁদের কার্যক্রম মূলত রুটিন ও চলমান প্রশাসনিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বা নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাঁদের থাকবে না।
গত সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর বর্তমান কমিটির নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়। তবে এখনো নতুন ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কমিটি সর্বোচ্চ ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে। এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বর্তমান কমিটির দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারায় নির্বাচিত পদাধিকারীদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ৩৬৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত সদস্যরা অতিরিক্ত ৯০ দিন অথবা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে, দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এরপর ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তবে নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত এই সময়ে ডাকসুর নেতাদের ক্ষমতা আগের মতো থাকবে না। তাঁরা শুধু রুটিন ও অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া, নতুন কোনো নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ কিংবা ডাকসুর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁদের থাকবে না।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, এই সময়ে ডাকসু নেতাদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না। তাঁরা শুধু অফিসিয়াল কাজ করতে পারবেন। যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের নথিতে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে, শুধু সেসব কাজই তাঁরা শেষ করতে পারবেন।
এদিকে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ডাকসুর বর্তমান নির্বাচিত নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
বর্তমান ডাকসু কমিটির নেতারা অবশ্য অতিরিক্ত তিন মাস দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিতে আগ্রহী নন। তাঁরা দ্রুত নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গঠনতন্ত্রে অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলেও ডাকসুকে দীর্ঘ সময় অনির্বাচিত অবস্থায় রাখার পরিবর্তে দ্রুত নতুন নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার দুপুরে ডাকসুর বর্তমান নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানাতে তাঁর কার্যালয়ে যান। তবে উপাচার্য চীন সফরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় তাঁর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবির কথা জানান।
সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর ডাকসুর বর্তমান কমিটির নিয়মিত মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ডাকসুর সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিন মাস বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁরা সেই মেয়াদ বাড়াতে চান না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফরহাদ আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তাঁদের বারবার বলা হচ্ছে, ‘আমরা চেষ্টা করছি, আমরা জানাব।’ কিন্তু বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে বর্তমান ডাকসুর নেতারা দাবি করেছিলেন, তাঁদের নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই যেন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১৪ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সেই তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।
ফলে নতুন ডাকসু নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তারা আন্তরিক এবং ডাকসুকে কার্যকর রাখতে চায়।
বুধবার এ বিষয়ে প্রথম আলোকে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ আন্তরিক। কারণ, প্রশাসন চায় ডাকসু কার্যকর থাকুক।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রভোস্টদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ চারজনের একটি সভা হয়েছে। ওই সভায় প্রভোস্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, হলগুলোতে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের প্রস্তাব নিতে।
একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও প্রশাসন আলাদাভাবে আলোচনা করবে বলে জানান তিনি।
সহ-উপাচার্য বলেন, প্রশাসন চায় অধিকসংখ্যক এবং বড় বড় ছাত্রসংগঠন ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ডাকসুকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রস্তাব নেওয়ার পর সেগুলো সমন্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করা হবে। সব সংগঠন সম্মিলিত ও সর্বসম্মতভাবে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে বললে তখনই তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সহ-উপাচার্য।
এদিকে বর্তমান ডাকসু কমিটির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বর্তমান নেতারা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রশাসন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রক্রিয়া নির্ধারণের কথা বলছে।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৯০ দিনের এই অতিরিক্ত সময়ও সীমাহীন নয়। এর মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বর্তমান কমিটির দায়িত্ব শেষ হবে। আর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না হলেও ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বর্তমান ডাকসু কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সময়সীমার মধ্যেই নতুন ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে কি না। বর্তমান নেতারা দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানালেও প্রশাসন এখনো নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি। ফলে নতুন ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গনে অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা দুটোই রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au