জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে সিআইএসএফের ৪ সদস্য নিহত
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।…
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছিল নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের আলোচিত দুই চলচ্চিত্র ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’। তবে সম্প্রতি সিনেমা দুটি আর প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্তের কথা সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠলেও বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই সিনেমা দুটি আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ও প্রযোজক তানভীর মোকাম্মেলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সিনেমা দুটি আর কেন দেখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দুটিই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে।
তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘লালসালু’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, রওশন জামিল ও মুনিরা ইউসুফ মেমীসহ অনেকে।
অন্যদিকে ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় তানভীর মোকাম্মেলের ‘চিত্রা নদীর পারে’। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ, রওশন জামিল ও সুমিতা দেবীসহ অন্যরা।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে চলচ্চিত্র সরবরাহের কাজ করে ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী রিটন জানান, তানভীর মোকাম্মেলের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হয়ে আসছে।
তবে প্রায় দুই মাস আগে তাদের জানানো হয়, ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ আর বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শন করা হবে না।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় কাজী রিটন জানান, বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে, সিনেমা দুটি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রদর্শিত হয়েছে। সে কারণে আপাতত এগুলো না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার সিনেমা দুটি প্রদর্শনের সুযোগ থাকতে পারে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, সিনেমা দুটি স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা পরিবেশক প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় প্রদর্শনের পর নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আপাতত এগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, বিমানের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট বা উড়োজাহাজের অভ্যন্তরীণ বিনোদনব্যবস্থার কনটেন্ট নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনস সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর সিনেমা, টেলিভিশন শো ও অডিও কনটেন্টের তালিকা পরিবর্তন করে।
বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, লাইসেন্স চুক্তি, উড়োজাহাজের ভেতরের স্টোরেজের সীমাবদ্ধতা এবং যাত্রীদের সন্তুষ্টি, এই তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় রেখেই কনটেন্ট পরিবর্তন করা হয়।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনস প্রদর্শিত সিনেমা বা শোগুলোর মালিক নয়। মিডিয়া ব্রোকারদের কাছ থেকে কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব কনটেন্ট প্রদর্শনের স্বত্ব নেওয়া হয়।
এই লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো সিনেমা বা অন্য কনটেন্ট প্রদর্শনের অধিকার পাওয়া যায়। প্রতিটি কনটেন্ট সাইকেল পরিবর্তনের সময় নির্ধারিত লাইসেন্সের আওতায় থাকা কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিমানের ভেতরে থাকা ফিজিক্যাল সার্ভারের স্টোরেজ সীমিত। ফলে সেখানে অসীম সংখ্যক সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা অডিও কনটেন্ট সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব নয়।
নতুন সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কনটেন্ট যুক্ত করার জন্য পুরোনো কিছু কনটেন্ট সরিয়ে জায়গা তৈরি করতে হয়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত কনটেন্টগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি যাত্রীদের আগ্রহ ও সন্তুষ্টির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। একই সিনেমা বা অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত হলে যাত্রীদের জন্য নতুন কনটেন্টের বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে সিনেমা, টিভি শো এবং অডিওর তালিকা পরিবর্তন করা হয় বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে প্রদর্শিত হওয়ায় সিনেমা দুটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা করে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে দুটি চলচ্চিত্রই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তবে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ও বিমান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সিনেমা দুটি কোনো নির্দিষ্ট বিতর্ক বা নিষেধাজ্ঞার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য তারা দেয়নি। বরং দীর্ঘ সময় প্রদর্শনের পর ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্টের নিয়মিত কনটেন্ট পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই আপাতত সিনেমা দুটি প্রদর্শন করা হচ্ছে না।
বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লাইসেন্সের মেয়াদ, কনটেন্ট সাইকেল, উড়োজাহাজের সার্ভার স্টোরেজ এবং যাত্রীদের জন্য নতুন কনটেন্ট যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কারণে ইন-ফ্লাইট বিনোদন তালিকায় নিয়মিত পরিবর্তন আনা হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ বর্তমানে প্রদর্শন তালিকার বাইরে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au