এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই পরিবারের তিন সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা এলাকায় প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হালিমা ওই এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির আশপাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু হালিমা। দীর্ঘ সময় তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের বাড়ি এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকেও শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রচার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, কেউ শিশুটির সন্ধান পেলে দ্রুত তাঁদের জানাবেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
পরে বিকেল ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি শুরু করেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের বাড়িতে খোঁজ চালানো হয়। সেখানে ঘরের একটি আলনার নিচে শিশু হালিমার নিথর দেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী আবদুল আউয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম এবং ছেলে রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশেদা আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। পরে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাত্র তিন বছর বয়সী শিশুর এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটি কীভাবে প্রতিবেশীর ঘরে পৌঁছাল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au