রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, আগের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১৩
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এ হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এর…
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর শ্রমিকদের ঘোষিত অনশন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি। চুক্তি বাতিল না হলে শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জোটের নেতারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ঘেরাওয়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদেও এ কর্মসূচি পালন করে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়তে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে এ চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে।
জোটের নেতারা দাবি করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে এই বন্দরের কার্যক্রম সরাসরি যুক্ত। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থ, জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং বন্দরের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, চুক্তির বিরোধিতা করে বন্দর শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে নিন্দা জানান জোটের নেতারা। তারা বলেন, শ্রমিকদের দাবি ও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামে বন্দর শ্রমিকদের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম স্কপ ও সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আহ্বানে অনুষ্ঠেয় অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন নেতারা। এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে তারা কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও আন্দোলনকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে জোটের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে বন্দর শ্রমিক, বন্দর ব্যবহারকারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তারা।
এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ সফল করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে শ্রমিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা বেলাল চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভুঁইয়া, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা আমিরুন নুজহাত মনিষা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কমিউনিস্ট লীগের নেতা শামীম ইমাম।
সমাবেশ শেষে নেতারা এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল, শ্রমিকদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের ঘটনার বিচার এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচিত উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au