এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ চন্দনা রানী শীল (২২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭। পুলিশের দাবি, পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে চন্দনাকে হত্যা করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পীযূষ শীল ওরফে প্রিতম, নজরুল ইসলাম ও মো. ইলিয়াস।
এর আগে শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি জমির আইল থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযূষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম এবং ফকিরহাট এলাকা থেকে মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে চন্দনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁর স্বামী শিমুল শীল। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি আরও দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানান।
জবানবন্দিতে শিমুল দাবি করেন, চন্দনার সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ ছিল। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে বিষয়টি নিয়ে চন্দনাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ঝগড়া বাধে। পরে তাঁরা তাঁকে হত্যা করেন। এতে নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও অংশ নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানায়, নজরুল সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক। শিমুল ও পীযূষ কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ডাম্পিং স্টেশনে প্রহরীর কাজ করতেন। নজরুলের অটোরিকশায় যাতায়াতের সূত্রে চন্দনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর শিমুলের সঙ্গে চন্দনার বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে স্বামী তাঁকে আবার ডেকে নেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au