এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি, প্রয়োজনে হরতালে যাওয়ার ঘোষণা জোটের
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) বন্দর…
বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত তাঁর এই সফর চলবে। সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্ব পাবে।
রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সফরকালে কানাডার প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই রাজধানী ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার অর্থায়ন ও সহযোগিতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নারী ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে কানাডার ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা নেবেন তিনি। এসব কার্যক্রম কীভাবে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই কানাডা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৭১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৬৩০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে কানাডা।
এই দীর্ঘ সময়ের সহযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কানাডার সহায়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কানাডার দীর্ঘদিনের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
দীর্ঘদিনের এই উন্নয়ন অংশীদারত্বকে ভিত্তি করে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখছে কানাডা। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪০০ কোটি কানাডীয় ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এর ফলে বাংলাদেশ ও কানাডা উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে কানাডা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাইয়ের। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাঁদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন তিনি।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে সংকট মোকাবিলায় কানাডা অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক দাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে দেশটি।
এই অর্থ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণেও ব্যবহার করা হয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে আগ্রহী দেশটি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au