মেলবোর্ন ২৯ জুন
প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ট্রায়াল। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শনিবার সকাল থেকেই ১৪টি দেশ থেকে আসা ৪৮ জন প্রবাসী ফুটবলার ঘাম ঝরিয়েছেন দুই সেশনে বিভক্ত অনুশীলনে। লক্ষ্য একটাই—টিকে থাকা এবং একদিন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চাপানো। তবে ট্রায়ালের প্রথম দিনটা ঠিক যেমনটা ধারণা করা যাচ্ছিল, দিনের শেষে মিলেও গেছে সেই প্রতিচ্ছবি। বাড়তি তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় হাসফাঁস অবস্থা হয়েছে খেলোয়াড়দের। অনুশীলন শেষে অনেকেই জানান, এতটা গরমে খেলা তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা।
মূলত যারা শীতপ্রধান দেশ থেকে এসেছে, তাদের জন্য গরমই হয়ে উঠেছে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল চেষ্টা। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য ছাইদ হাসান কানন প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন,
প্রথম দিনে সকালে একটু গরম ছিল। ওদের একটু ক্লান্ত মনে হয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণ করে এসেছে, তাই শুরুতে দেখা কঠিন। তবে ওদের ফুটবল সেন্স খুব ভালো। ফিটনেসে একটু ঘাটতি মনে হয়েছে। তারপরও তাদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা আছে। তাদের সময় লাগবে।
বিভিন্ন পজিশনে খেলোয়াড় এসেছে, কিন্তু সকল পজিশনে খেলোয়াড় ছিলো না। ফলে বাফুফের এলিট একাডেমি থেকে কিছু খেলোয়াড় এনে অনুশীলনে দল তৈরি করতে হয়েছে। ছাইদ হাসান কানন অবশ্য সন্তুষ্ট নন খেলোয়াড়দের ফিজিক্যাল কন্ডিশন নিয়ে বলেন,
“ফিজিক্যাল কন্ডিশন খুব একটা ভালো মনে হয়নি। পজিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় কম। বরং এক পজিশনে বেশি বেশি খেলোয়াড় দেখলাম। মিডফিল্ড ডিফেন্স ও স্ট্রাইকার পজিশনে এখনও খেলোয়াড় দেখতে পাইনি। রাইট ও লেফট সাইডে বেশি খেলোয়াড় আছে। কাল আরও দুদিন সেশন আছে। এরপর একটা কিছু বলা যাবে।
তবে গরমে অস্বস্তি থাকলেও পারফরম্যান্স মূল্যায়নে তার প্রভাব খুব একটা পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। তিনি জানান,
“গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জের। তবে কাল আমরা তাদের বলেছি আবহাওয়ার বাধা যেহেতু আছে, তাই সেটা বিবেচনায় রেখে আমরা মূল্যায়ন করব। চিন্তার কিছু নেই। তারা যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে, সেটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিয়েছি, যেন তারা ভবিষ্যতেও চিন্তা করে। কিছু কিছু খেলোয়াড়ের পজিশনাল খেলা আমরা নজরে রাখছি। উন্নতির জায়গাটা আমরা জানিয়ে দেব।
প্রবাসীদের এই বিশেষ ট্রায়ালে জাতীয় দলের স্প্যানিশ হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরাকে দেখা গেছে সক্রিয়ভাবে। সকাল-বিকাল দুই সেশনে মাঠে থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সঙ্গী ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের কোচরাও।