সমতায় ফেরানো গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন এন্দ্রিকের (বল হাতে)। ছবি : রয়টার্স
ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। হার যেন প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফুটবল বিশ্বকে আবারও চমকে দিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে তিনটি গোল করে হোসে মরিনহোর দল রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রোমার স্তাদিও অলিম্পিকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। রোমার হয়ে প্রথম গোলটি করেন মার্টেন ডে রুন। ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ। বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে গোল করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে এটি ছিল তাঁর ৭২তম গোল। এর মধ্য দিয়ে রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে ছাড়িয়ে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন এমবাপ্পে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় রোমা। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মালেন। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি রিয়াল। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা কার্লোস ইস্পি প্রথমে ব্যবধান কমান। এন্দ্রিকের হেড রোমার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
এরপর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে রিয়াল। ৮৫ মিনিটে আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। এতে ৩-৩ গোলে সমতায় ফেরে দুই দল।
ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো বাকি। ৯০ মিনিটে আর্দা গুলারের নেওয়া আরেকটি সেট পিস থেকে কাছের পোস্টে ভলিতে জয়সূচক গোল করেন আন্তোনিও রুডিগার। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ৪-৩ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচটিতে রোমার প্রতিপক্ষ হলেও সাবেক কোচ হোসে মরিনহোকে ঘিরে গ্যালারিতে ছিল স্মরণমূলক ব্যানার। ২০২১-২২ মৌসুমে মরিনহোর অধীনেই রোমা কনফারেন্স লিগ জিতেছিল। পরের মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে দলটি ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করল রিয়াল মাদ্রিদ, শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত তাদের হার নিশ্চিত করে বলা যায় না। ম্যাচের শেষ সাত মিনিটে তিন গোল করে রোমার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফেরাটা ইউরোপীয় ফুটবলে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রত্যাবর্তনের আরেকটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকল।