অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জোশুয়া ব্রাউন। ২৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ৭০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ৭ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে কাজ করার সময় একাধিক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী জোশুয়া ডেল ব্রাউন। তার বিরুদ্ধে আট শিশুর ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন এবং খাবারে নিজের শারীরিক তরল মেশানোর মতো জঘন্য অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ৭০টিরও বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্রাউন ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেলবোর্নের পয়েন্ট কুক এলাকার ক্রিয়েটিভ গার্ডেন আর্লি লার্নিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়েই তিনি এই ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডগুলো করেছেন।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ শিশুকে যৌন রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। যেসব রোগের পরীক্ষা হচ্ছে তার মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া এবং সিফিলিসের মতো সংক্রমণ আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মোট প্রায় ২,৬০০ পরিবারকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
একজন মায়ের কথায় বোঝা যাচ্ছে পরিবারগুলোর আতঙ্ক আর কষ্টের মাত্রা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার মনে হচ্ছিল, আমার আত্মা শরীর থেকে বের হয়ে গেছে। আমি কেবল ভেঙে পড়েছি।” অন্য এক অভিভাবক বলেন, “ঘটনাটা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে, বাচ্চাদের জন্য এটা এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।”
ডে-কেয়ার সেন্টারের এক কর্মীও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এমন কিছু আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। এটা ভাবাই যায় না।”
এ ঘটনায় ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ভিক্টোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাসিন্টা অ্যালান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার গভীরতা বুঝে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আইন আরও কঠোর করা হবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্রাউনকে এখনও জামিন দেওয়া হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ব্রাউনের পাশাপাশি আরও একজনের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একজন অপরাধীর বিচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়— বরং পুরো ডে-কেয়ার ও শিশুশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলছে। সিসিটিভি, বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালু করার মতো বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা আর বাবা-মায়েদের আস্থার জন্য এই ঘটনা এক বড় ধরনের ধাক্কা। এখন শুধু আইন নয়, সমগ্র ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। শিশুদের নিরাপত্তা যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দারা।
সুত্রঃ নাইন নিউজ