পার্বত্য চট্টগ্রামে কি ভারতকে হারানোর কৌশল নিয়েছিল পাকিস্তান?
১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর। কোনো গুলি ছোড়া ছাড়াই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি…
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে পুনরায় দাফনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা অবস্থান নেন। পরে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষের কিছু অংশ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় প্রশাসন।
নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় গোরস্থানে গিয়ে দেখতে পান, তার ভাইয়ের কবর খোঁড়া অবস্থায় রয়েছে। কবর থেকে মরদেহের দেহাবশেষ কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
পরে তিনি শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে গিয়ে সেখানে নতুন একটি কবর খোঁড়া দেখতে পান। সেখানে দেহাবশেষ রেখে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শামীম জাহাঙ্গীরের কয়েকজন ভক্ত রাতে গোরস্থান থেকে দেহাবশেষ তুলে এনে তার আস্তানা প্রাঙ্গণে সমাধিস্থ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ বলেন, রাতের আঁধারে গোরস্থান থেকে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ তুলে তার আস্তানায় নিয়ে পুনরায় দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষের কিছু অংশ উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমানের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় গোরস্থানে গিয়ে কবর খোঁড়ার আলামত পাওয়া যায়। পরে দরবারে গিয়ে দেহাবশেষের কিছু অংশ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উদ্ধার করা দেহাবশেষ স্থানীয় গোরস্থানে নিয়ে পুনরায় দাফন করা হবে।
ইউএনও আরও জানান, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটকও করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে ঘিরে এর আগেও দৌলতপুরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নে তার আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর একটি অংশ তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম বিকৃত করার অভিযোগ তুলে ওই হামলা চালায় বলে জানা যায়।
এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ১২ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পীর শামীম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বর্তমানে কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au