খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- কেনিয়ায় পুলিশের হাতে হওয়া সহিংসতার ঘটনা দেশের রাজনীতি ও সমাজকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জুন মাস থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ শুরুর পর মাত্র এক মাসের মধ্যে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা অনেক বেশি, এবং বহু বিক্ষোভকারী আটক ও নিখোঁজ রয়েছে। মূলত নতুন ট্যাক্স আইন এবং মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হলেও, পুলিশি জবাবদিহিতার অভাবে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
নাইরোবি সহ কেনিয়ার বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং লাইভ গুলির ব্যবহার জনজীবনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে জুনে পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্লগার ও শিক্ষক আলবার্ট ওজওয়াংয়ের মৃত্যু দেশজুড়ে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সরকারি পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি করা হলেও অটোপসি রিপোর্ট ও তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন পুলিশি নির্যাতনের প্রমাণ বহন করে। এই ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীরা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে এবং পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা তাদের আন্দোলনকে থামাতে পারেনি।
কেনিয়ার পুলিশি সহিংসতার ইতিহাস নতুন নয়। ২০০৭ ও ২০১৭ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়েও পুলিশের দমন-পীড়নের কারণে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এবারের আন্দোলন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে এবং এটি সরকারের প্রতি জনগণের অসন্তোষ আরও প্রকট করে তুলেছে।
আন্দোলনকারীরা ‘জেনারেশন জেড’ নামের তরুণ সমাজ, যারা সবুজ রঙের জামা পরে একাত্মতা প্রকাশ করছে। তারা দাবি করছে, সরকারের কঠোর অর্থনৈতিক নীতিমালা তাদের ভবিষ্যৎকে শঙ্কিত করছে। অন্যদিকে, পুলিশি হামলা ও নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ব্যাপক।

পুলিশের কাছে রাইফেল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন ক্ষুব্ধ এক নারী; ছবিঃ রয়টার্স
আন্তর্জাতিক মহল থেকে কেনিয়ার সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাধীন তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবী করেছে।
তবে কেনিয়ার সরকার আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তদন্তের, কিন্তু অতীতে এই প্রতিশ্রুতি বেশিরভাগ সময় বাস্তবায়িত হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ রয়ে গেছে।
এই ঘটনাগুলো দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যখন জনগণ তাদের জীবিকা রক্ষায় সংগ্রাম করছে, তখন পুলিশের জোরজবরদস্তির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেনিয়ার তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন শুধু কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তার দাবি হিসেবে রূপ নিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সংস্কারের বিকল্প নেই।
কেনিয়ার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টিতে একটি সতর্কবার্তা, যা দেখায় যে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, সেখানে শোষণ ও অবিচারকে প্রতিহত করতে সামাজিক আন্দোলন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া কেনিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au