ঘটনার দিন সন্ধ্যায় একা পেয়ে মঈনসহ ৪-৫ জন সোহাগকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। ছবঃ সংগৃহীত
ঢাকা, ১২ জুলাই-
বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ (৩৯) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় যুবদল নেতা মঈন ও জনি নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
নিহতের বন্ধু মামুন অভিযোগ করেছেন, মঈন দুই-তিন মাস ধরে প্রতি মাসে চাঁদা দাবি করত সোহাগের কাছে। সোহাগ টাকা না দেওয়ায় মঈন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় একা পেয়ে মঈনসহ ৪-৫ জন সোহাগকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এমনকি তারা সোহাগের পরনের পোশাকও খুলে ফেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় টিটু, মনির, অপু দাস, মঈন ও পলাশসহ তাদের সহযোগীরা অংশ নেন।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ২০১২ সালের বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই ঘটনায়ও পুরান ঢাকাতেই প্রকাশ্যে এক তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
যুবদলের চকবাজার থানার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মঈনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হাসপাতালের কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাব্বি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মঈন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারে না।
নিহত সোহাগের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে জানা গেছে, তিনি একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় ছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয়।
পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।