লিড নিউজ

স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে একসঙ্গে ১৩৫০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ট্রাম্প প্রশাসন

  • 10:13 pm - July 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০৫ বার
অফিস ছাড়ার সময় কর্মকর্তারা কান্নাভেজা চোখে সহকর্মীদের বিদায় দেন; ছবিঃ রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। এর আওতায় একসঙ্গে অন্তত ১ হাজার ৩৫০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই এবং আরও বহু জনকে স্বেচ্ছা অবসর নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজারের মতো কর্মী স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বিদায় নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ১১০৭ জন সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা এবং ২৪৬ জন ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা, যাদের কাজ মূলত মানবাধিকার, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধাপরাধ, গণতন্ত্র, নারীর অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত নানা ক্ষেত্রে। নতুন প্রশাসনের মতে, এদের অনেকেই ‘নন-কোর ফাংশনস’–এর আওতাভুক্ত, তাই তাদের আর প্রয়োজন নেই।

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালেই ২০১৭ সালে স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাজেট এক-তৃতীয়াংশ কমানোর প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। সেই সময়েও শতাধিক সিনিয়র কূটনীতিক ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা একসঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন আরও বৃহত্তর পুনর্গঠন শুরু করেছে, যা ‘কৌশলগত আধুনিকায়ন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে সরকার।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কংগ্রেস, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাবেক কূটনীতিকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সুরক্ষা ও যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কিত নীতি দুর্বল হয়ে যাবে।

আইনগতভাবেও এই বরখাস্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিছু কর্মী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ছাঁটাই প্রক্রিয়া স্থগিত করার আবেদন করেছিলেন। প্রথমে নিম্ন আদালত স্থগিতাদেশ দিলেও, পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন, ফলে শুক্রবার থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে বরখাস্ত হওয়া বা অবসরে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে অনেকেই স্টেট ডিপার্টমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, অফিস ছাড়ার সময় তারা কান্নাভেজা চোখে সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায় নেন, ল্যাপটপ ও সিকিউরিটি কার্ড ফেরত দেন এবং অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অফিস ছাড়ার সময় কর্মকর্তারা কান্নাভেজা চোখে সহকর্মীদের বিদায় দেন, ল্যাপটপ ও সিকিউরিটি কার্ড ফেরত দেন এবং অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ছবিঃ রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি আরও ‘সংক্ষিপ্ত, কার্যকর ও দেশের স্বার্থকেন্দ্রিক’ করতে নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এর মাধ্যমে কেবল কর্মী সংখ্যা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের চেহারাই বদলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্র তার ঐতিহাসিক মানবিক ও নৈতিক নেতৃত্ব হারাবে, এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের জন্য সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সালেও এক দফা বড় ধরনের ছাঁটাই ও বাজেট কাটছাঁটের চেষ্টা চালিয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেসের প্রবল বিরোধিতায় পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাছাড়া, ১৯৯০–এর দশকের শুরুর দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরেও যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাজেট ও জনবল কমিয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে তখনও সমালোচনা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে এই ছাঁটাই শুধু অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারকেই নতুনভাবে সাজানোর এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তবে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক নৈতিকতা ও বিশ্ব নেতৃত্বের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে কিনা, সেই উত্তর সময়ই দেবে।

সুত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

ভক্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মহিমায় সিডনিতে দর্পণের শারদীয় দুর্গোৎসব

শতদল তালুকদার, সিডনি- শরতের স্নিগ্ধ আবহ, দেবীবন্দনার পবিত্র অনুরণন আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের আবাহনে সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দর্পণ কালচারাল অ্যান্ড রিলিজিয়াস…

কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা

কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au