এরপরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিঃ প্রতিকী
মেলবোর্ন, ১৩ জুলাই-
ওড়িশার বালাসোর জেলার ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ বারবার জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবশেষে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ঘটনায় ছাত্রীটির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রী নিজের কলেজেরই এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন যে, অধ্যাপক তাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। না মানলে শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর ছাত্রীটি কলেজের ইন্টারনাল কমপ্লেইনটস কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দেন। এমনকি পুলিশেও অভিযোগ জানান। কিন্তু প্রশাসন বা কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ছাত্রীর সহপাঠীরা কলেজে টানা বিক্ষোভ করেছেন। এরপরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন কলেজ চত্বরে গুহার পাশে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরান ওই ছাত্রী। টহলরত পুলিশ সদস্যরা পোশাক ঝুলতে দেখে সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কলেজের অধ্যক্ষকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণ, কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও অভিযোগ গ্রহণে গাফিলতা খতিয়ে দেখবে।
উত্তর বালাসোরের পুলিশ সুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ছাত্রীটি কীভাবে দুই সপ্তাহ ধরে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা অত্যন্ত বেদনার বিষয়। সৌভাগ্যক্রমে উদ্ধার তৎপরতার কারণে তার জীবন রক্ষা পেয়েছে, তবে অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
এ ঘটনা শুধু কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বহীনতাই নয়, গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবস্থার নীরবতার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন শিক্ষার্থী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গঠিত কমিটিগুলো যেন শুধু নামকাওয়াস্তে না থাকে, কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেই দায়িত্ব এখনই নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া