জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২০ জুলাই- কক্সবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত সমাবেশ বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ইঙ্গিত করে ‘নব্য গডফাদার’ হিসেবে উল্লেখ করলে জেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
গতকাল শনিবার বিকেলে কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, লোহাগাড়া ও চকরিয়ায় এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাগুলো বাধার মুখে পড়ে। চকরিয়ায় প্রস্তুতকৃত মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার-ফেস্টুন। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে তৈরি করা মঞ্চের কাচ ও সাউন্ড সিস্টেমও নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর এনসিপির গাড়িবহর চকরিয়ার হাঁসের দিঘী আর্মি ক্যাম্প এলাকায় দুই ঘণ্টা আটকে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় তারা এলাকা ত্যাগ করে বান্দরবানের দিকে রওনা হয়।
এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ বলেন, “চকরিয়ায় আমাদের সমাবেশ ছিল, কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা তা পণ্ড করে দিয়েছেন।”
চকরিয়া থানা পুলিশের ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, সহিংসতা এড়াতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে চকরিয়া উপজেলা আহ্বায়ক এনামুল হক বলেছেন, “সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন জাতীয় নেতা। তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এনসিপিকে এই মন্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের শহীদ দৌলত ময়দানে এনসিপির সমাবেশে দেওয়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভে নামেন। চকরিয়া ও ঈদগাঁওয়েও এনসিপির পথে বাধা সৃষ্টি হয়।
চকরিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার পর রাত পৌনে ৯টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এনসিপির পথসভায় বক্তব্য রাখেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নতুন করে ভয়ভীতির সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা চলছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জায়গায় অগণতান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক হুমকি।”
এ সময় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা, খান তালাত মাহমুদ রাফি এবং স্থানীয় নেতা শহীদুর রহমান সোহেল।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।