হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন ২০ জুলাই- গোপালগঞ্জ শহরের শান্ত, নির্জন দীপ্ত সাহার বাড়িতে রবিবার (২০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হলো তাঁর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। চারপাশে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। সকাল থেকেই বাড়ির আঙিনা ভরে উঠেছিল স্বজনদের কান্নায়, প্রতিবেশীদের দীর্ঘশ্বাসে আর পরিবারের নিঃশব্দ হাহাকারে। মাত্র ২৫ বছর বয়সী দীপ্ত সাহা গত ১৬ জুলাই রাজনৈতিক সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রাণচঞ্চল, প্রাণবন্ত এই তরুণের আকস্মিক বিদায়ে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে আয়োজিত এই শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে ছিল হোমযজ্ঞ, পিণ্ডদান, পুরোহিতের শান্তিমন্ত্র—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক হৃদয়বিদারক বিদায়ের দিন। দীপ্তর মা একাধিকবার ভেঙে পড়েন।
দীপ্ত সাহার বড় বোন সেতু সাহা, যিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাস করেন, এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। তাঁর স্বামী রাতুল বিশ্বাস, যিনি অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ বিভাগে কর্মরত, নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন— “কোথায় আমার ছোট ভাইটা এখন বিয়ের মালা পরবে, সেখানে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার গলায় আজ বিদায়ের মালা! সবাই প্রার্থনা করবেন, যাতে আমার ভাইটার আত্মার সদগতি হয়।”

মাত্র ২৫ বছর বয়সী দীপ্ত সাহা গত ১৬ জুলাই এক রাজনৈতিক সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। ছবি: পারিবারিকভাবে সরবরাহকৃত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে এখনো চলছে শোক প্রকাশের ঢল। অনেকে মন্তব্য করছেন, “এই মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। এর বিচার হতেই হবে।” শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন দীপ্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। কেউ কেউ বলছিলেন, “আমাদের মধ্যে সে ছিল সবচেয়ে হাসিখুশি মানুষ। ওর এমন মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
দীপ্ত সাহার মা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন,
“দীপ্তকে কত মানুষ ভালোবাসতো, আগে কখনও বুঝিনি। গত কয়েকদিন ধরে আমাদের ঘর-দুয়ারে মানুষের ঢল.. বসার জায়গা নেই, সবাই দীপ্তর জন্য কাঁদছে, দোয়া করছে। কিন্তু, কটা সময় তো সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে যাবে।
তখন আমি কীভাবে আমার ছেলেটার শূন্যতা নিয়ে বাঁচব? ওর শোক আমি একা কীভাবে সহ্য করব, কীভাবে সামলাবো বলো…?”
পুরোহিত শান্তির মন্ত্র পাঠ করছিলেন, কিন্তু তার ফাঁক গলে বারবার কেঁপে উঠছিল দীপ্তর মায়ের বুকফাটা কান্না। দীপ্তর ছবি আর ধূপকাঠির ধোঁয়ার মধ্যে তৈরি হচ্ছিল এক অনির্বচনীয় শূন্যতা। আজ যেন একটাই কথা বারবার ঘুরে ফিরে আসছিল— এই বিদায় হওয়া উচিৎ ছিল না। এই জীবন থেমে যাওয়ার কথা ছিল না।
দীপ্ত সাহা নেই, কিন্তু তাঁর জন্য ভালোবাসা, বেদনা আর প্রতিবাদের আগুন হয়তো আরও অনেক দিন ধরে মানুষের মনে জ্বলতে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au