শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, বরং তা আড়াল করা হচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শোকাহত ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে মঙ্গলবার সকালেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন সরকারের দুই উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তারা পরিস্থিতির চাপে পড়ে কলেজের একটি ক্লাসরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং সেখানেই কিছু সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার ঘটনাস্থলে আসলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তীব্র স্লোগানে তাদের ঘিরে ফেলেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর কিছু সময়ের ব্যবধানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সেখানে পৌঁছান এবং তাকেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে ধোঁয়াশা ও দেরিতে ঘোষণার বিষয়টি। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারিভাবে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, বরং তা আড়াল করা হচ্ছে। এছাড়াও তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সেনা সদস্যদের অশোভন আচরণ করা হয়েছে এবং তার প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থায় উপদেষ্টারা কলেজ ভবনের একটি কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। ইতোমধ্যে সেখানে একটি মাইক আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে সকাল ১০টা থেকেই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গোলচত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন শত শত শিক্ষার্থী। তারা ব্যানার, পোস্টার ও নানা স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবিদাওয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। মূলত
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্কুল কর্মীদের হতাহতের ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।
শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে – নিহত ও আহতদের সঠিক পরিচয় প্রকাশ, সেনাসদস্যদের আচরণে ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান বাতিল, এবং মানবিক ও নিরাপদ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দাবি।
এর একদিন আগে, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ভবনের একাংশে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ অনেকেই আহত ও নিহত হন।
এই দুর্ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা এবং স্কুলের শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতি কেবল দুঃখজনক নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।