নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু, একজন শিক্ষক ও একজন পাইলট; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭১ জন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু, একজন শিক্ষক ও একজন পাইলট বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়নের ১২ মিনিট পর বিধ্বস্ত হয়ে ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। সাথে সাথেই আগুন ধরে যায় এবং আগুনে পুড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিমানটি একা চালাচ্ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম, যিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাইলস্টোন কলেজ এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী দিয়াবাড়ী গোলচত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং অভিযুক্তদের জবাবদিহি ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ছিল—
• নিহতদের পরিচয় প্রকাশ ও মরদেহ হস্তান্তর,
• আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ,
• সেনাসদস্যদের আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা,
• ক্ষতিপূরণ প্রদান,
• ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান বাতিল এবং
• নিরাপদ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’, ‘আমার ভাই মরল কেন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগানে তাদের ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা মাইলস্টোন ভবনের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং কিছু সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের দেখতে গিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় যাদের গভীর দগ্ধতা হয়েছে, তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আসছে তাদের পর্যবেক্ষণে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪২ জন, সিএমএইচে ২৮ জন এবং ঢামেকে ৩ জন ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুইজন ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ছয়জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো পরিবারকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বিরাজ করছে।