বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের সেখানে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছোড়া হয় সাউন্ড গ্রেনেডও। এর আগে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে পার্কিংয়ে থাকা বেশ কয়েকটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের জোরপূর্বক সচিবালয় এলাকা থেকে বের করে দেয়। তখন থেকেই বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলছে, উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও তা ঘোষণায় দেরি হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছে, গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
বেলা আড়াইটার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে জমায়েত হতে থাকে। তারা “আমার ভাই মরল কেন?”, “ভুয়া ভুয়া”, “প্রশাসন জবাব দে”—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকে। ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী জোনায়েদ আহমেদ বলেন, “রাত তিনটায় এসে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিলে আমরা তো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হবই। এর দায় শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের।”
এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবিতেও সচিবালয়ের সামনে হাজির হয়েছিল বলে জানা গেছে। বিক্ষোভের সময় সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক যানবাহন ভেতরে আটকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।
উল্লেখ্য, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে সোমবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটায়। প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ফেসবুকে তা জানান, পরে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি প্রেস সচিব ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড নিশ্চিত করে।
শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপকে দায়িত্বহীন ও অযোগ্যতার পরিচায়ক হিসেবে দেখছে এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ দাবি করছে। বিকেল সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত সচিবালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি এখনও থমথমে।