হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ জালিয়াতি ও উগ্রপন্থার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছে দেশটির সরকার। সর্বশেষ শুক্রবার (২৫ জুলাই), মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮০ বাংলাদেশিসহ মোট ৯৯ জন বিদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১-এ মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (AKSEM) টানা সাত ঘণ্টার বিশেষ অভিযান চালায়। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইট থেকে নামা ৪০০ জনের বেশি যাত্রীর তথ্য যাচাই করা হয়। একেপিএস-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের সবাই পুরুষ এবং তাদের মধ্যে ৮০ জন বাংলাদেশি, ১০ জন ভারতীয় এবং ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিক। সন্দেহজনক ভ্রমণ উদ্দেশ্য ও পূর্ববর্তী যাত্রার তথ্য অসঙ্গত হওয়ায় তাদের অভিবাসন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে দেওয়া হয়নি।
এর একদিন আগেই, বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই), একইভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় আরও ১২৩ বাংলাদেশিসহ ১৯৮ জন বিদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে, এর আগেও দেশটিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ৩৬ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনকে দেশে বহিষ্কারের (নির্বাসনের) আদেশ দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিতান ইসমাইল জানান, এই ব্যক্তিরা ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত চরমপন্থি মতাদর্শ প্রচারে যুক্ত ছিল।
২৪ এপ্রিল থেকে সেলাঙ্গর ও জোহর প্রদেশে তিনটি অভিযানে এই বাংলাদেশিদের আটক করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যে উগ্রবাদ ছড়ানো, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থ সংগ্রহ এবং নিজ দেশে সরকার উৎখাতে সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মালয়েশিয়া কখনোই চরমপন্থী আন্দোলন কিংবা বিদেশি ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি হতে দেবে না।
এই মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধে শাহ আলম ও জোহর বাহরুর আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অন্য ১৫ জনকে নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেডিএন গোয়েন্দা ও নজরদারির মাত্রা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে, কেউ মালয়েশিয়াকে চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের ট্রানজিট বা ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করলে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
এই সব ঘটনায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ও অবস্থান আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকেরা।
সুত্রঃ বার্তা সংস্থা বারনামা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au