উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই- দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ঘিরে পাঁচ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসানে তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। সোমবার (২৭ জুলাই) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘সেরি পেরদানা’তে আয়োজিত বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
সংঘাতের ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে অন্তত দুই লাখ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আসলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বৈঠকের আগ মুহূর্তেও সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। থাইল্যান্ডের অভিযোগ, কম্বোডিয়া সদিচ্ছা নিয়ে আসেনি এবং উসকানিমূলক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার দাবি, থাইল্যান্ড তাদের ভূখণ্ডে ভারী অস্ত্র ও বিপুল সেনা নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। উভয় দেশই একে অপরকে সংঘাতের জন্য দায়ী করছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদ থেকেই তিনি সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন এবং বৈঠক আয়োজন করেন।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধে নতুন করে শুরু হওয়া এই সহিংসতা এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং স্থায়ী শান্তির জন্য সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স