গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (বাঁয়ে) ও গোলাম আকবর খন্দকার; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই- চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। একইসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাত আটটার দিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা দুটি চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিলুপ্ত কমিটির স্থলে শিগগিরই নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।
একই রাতে আরেকটি চিঠিতে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম মিয়াজী, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোলাম আকবর খন্দকারকে আহ্বায়ক করে ৪৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। পরে এতে ৯ জন যুগ্ম আহ্বায়ক যুক্ত হয়ে কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩-তে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে দলটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি, বরং দলীয় কোন্দল বেড়েছে।
আজ বিকেলে রাউজানের সত্তারহাট এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস কাদের ও উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছররা গুলিতে অন্তত ২০ জন আহত হন, আহতদের একজন গোলাম আকবর নিজেই। তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, এক পক্ষ কবর জিয়ারতে যাচ্ছিল আরেক পক্ষ শোভাযাত্রা করছিল। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসঙ্গত, রাউজানে গত এক বছরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে। স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে শতাধিকবার, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বিএনপি এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়।