রোববার ক্রাশেনিনিকভ নামের এই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ছবিঃ এএফপি
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কামচাটকা উপদ্বীপে প্রায় ৬০০ বছর পর ফের জেগে উঠেছে এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। রোববার (৩ আগস্ট) ক্রাশেনিনিকভ নামের ওই আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। আগ্ন্যুৎপাতের ফলে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ছয় কিলোমিটার উচ্চতার ছাইয়ের কুণ্ডলী, যা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
রাশিয়ার ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কামচাটকায় আঘাত হানা ৮.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণেই এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। ভূমিকম্পটি ছিল ১৯৫২ সালের পর ওই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার কারণে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকার চিলি পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
রুশ জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কামচাটকার ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ১ হাজার ৮৫৬ মিটার। অগ্ন্যুৎপাতের পর সেখানে প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ এবং ছাই উদ্গিরণের ঘটনা ঘটে। ছাইয়ের স্তম্ভ ছয় কিলোমিটার উঁচুতে পৌঁছায় এবং তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পূর্বদিকে। এখন পর্যন্ত আশপাশের কোনো জনবসতির ওপর সরাসরি প্রভাব না পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি গত কয়েকশ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকলেও এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল তীব্র ভূ-কম্পন প্রবণতায়। রাশিয়ার সরকারি আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা কামচাটকা ভলকানিক ইরাপশন টিমের প্রধান ওলগা গিরিনা বলেছেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো প্রমাণিতভাবে ৬০০ বছর পর ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্লুচেভস্কয় নামের অন্য একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরিও ভূমিকম্পের পরপরই জেগে ওঠে। একাধিক আগ্নেয়গিরির সক্রিয় হওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে—এটি একটি সিসমিক শৃঙ্খলা রূপে কার্যকর হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে আগ্নেয়গিরির নিচের ম্যাগমা স্তরগুলো চাপের মুখে বিস্ফোরিত হয়ে ছাই ও লাভা উদ্গিরণ শুরু করে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে। আকাশ মেঘলা হয়ে উঠলেও এখনো কোনো বিশেষ বিপদের সংকেত নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পর্যটন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আকাশপথেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে কি না—এ নিয়ে গবেষকরা এখন তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলজুড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা এবং আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্ব আবারও সামনে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্নেয়গিরির আশপাশে মানববসতি না থাকায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এই ধরনের অপ্রত্যাশিত জিওলজিক্যাল ঘটনার ফলে পরিবেশ ও জলবায়ুতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়তে পারে। কারণ ছাইয়ের কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রায় পরিবর্তন আনে এবং কৃষিকাজেও ব্যাঘাত ঘটায়।
এই ঐতিহাসিক অগ্ন্যুৎপাত রাশিয়ার ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
সুত্রঃ রয়টার্স