কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ২
কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত এখন গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, সংকট সমাধান না হলে মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মূল্যায়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাজস্ব আহরণ ও সুশাসনকে লাল শ্রেণিতে রেখেছে সিপিডি, যা অবিলম্বে পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে “অন্তর্বর্তী সরকারের ৩৬৫ দিন” শীর্ষক সংলাপে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সেবার মান, নীতি বাস্তবায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ঘাটতি দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে আগামী প্রজন্মকে এর মাশুল দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত নয়। হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোর ঘাটতি, কর্মী সংকট ও সুলভ ওষুধের অভাব প্রকট। শিক্ষাখাতেও শিক্ষক সংকট, শিখনের নিম্ন মান ও শহর-গ্রামের বৈষম্য বিদ্যমান। রাজস্ব আহরণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে রয়েছে, সরকারি ক্রয়ে সুশাসনের অভাবও স্পষ্ট। ব্যাংকিং, জ্বালানি ও ভূমি খাতের সংস্কার ধীরগতিতে চলছে এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সিপিডি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণকে মধ্যম পর্যায়ের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গত বছরের তুলনায় খাদ্যের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো বেশি, ফলে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। চাকরির সুযোগ সীমিত, বিশেষত গ্রামীণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে। পোশাকের বাইরে অন্যান্য রপ্তানি খাত যেমন ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি সংস্কার ও সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮টি সূচকের মধ্যে ১১টি লাল, ১৮টি হলুদ এবং ৯টি সবুজ পর্যায়ে রয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সিপিডির সুপারিশ হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বাজেট বৃদ্ধি ও ব্যয় দক্ষতা উন্নত করা, কর প্রশাসন জোরদার করে রাজস্বের উৎস বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দ্রুত সংস্কার আনা। ফাহমিদা খাতুন বলেন, এক বছরে কাঠামোগত সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও সঠিক পথে যাত্রা শুরু ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের জন্য এই সময় যথেষ্ট। সংলাপে উপস্থিত নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একমত হন যে, সরকারের বাকি সময়ে লাল ও হলুদ খাতগুলোকে সবুজ সাফল্যে রূপান্তর করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানব উন্নয়নের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au