পরিবারের দাবি, ফাঁসানো হয়েছে : চুম্বনের দাবিও নিশ্চিত নয়
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বাংলাদেশকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চেয়েছে…
জার্মানিতে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা।
‘জেন জেড স্টেহট আউফ’ নামের একটি উদ্যোগের ব্যানারে অন্তত ২১টি শহরে একযোগে এ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ছড়ানোর আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় বার্লিন, হামবুর্গ, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ জার্মানির ২১টি শহরে একযোগে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা কর্মসূচির প্রধান দাবি।
আয়োজকদের বক্তব্য, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নীতিনির্ধারণে তাদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় না কমিয়ে এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তরুণদের ওপর অর্থনৈতিক সংকটের চাপ না চাপানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
জার্মানিতে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের পরিকল্পনাও তরুণদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আয়োজকেরা বলছেন, যুদ্ধ ও সামরিক নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের মতামত উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জার্মানির বিভিন্ন এলাকার পুলিশ। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ বলেছেন, কিছু গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে। বৈধ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মধ্যে পার্থক্য করতে পুলিশ সতর্ক থাকবে।
পুলিশের আশঙ্কা, উগ্রপন্থি ও সহিংসতাপ্রবণ গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে। বিশেষ করে ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উৎসবের রাত হওয়ায় আতশবাজি ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীর ব্যবহার ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে বিক্ষোভের আয়োজকেরা সহিংসতার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। উদ্যোগটির অন্যতম উদ্যোক্তা আকরাম সেলো বলেছেন, তারা যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে স্পষ্টভাবে নিজেদের দূরে রাখছেন। শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দাবি তুলে ধরাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে জার্মানির এ কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পর জার্মানির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আয়োজকেরা অবশ্য বলছেন, ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচি কেবল এক দিনের প্রতিবাদ নয়; তরুণদের দাবি আদায়ে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের সূচনা। তাদের লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au