ভুমিকম্পে অন্তত ১৬টি ভবন ধসে পড়েছে। ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন,১১ আগষ্ট- তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার এই ভূমিকম্প রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকেসির প্রদেশের সিন্দিরগি শহরে আঘাত হানে, যা ইস্তাম্বুল পর্যন্ত অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রও ছিল সিন্দিরগিতে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অন্তত একজন নিহত হয়েছেন—৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার কিছুক্ষণ পর মারা যান। এছাড়া অন্তত ১৬টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পর উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং পরে তা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আর কোনও গুরুতর ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সিন্দিরগি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বহু বড় ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং বিশাল ধ্বংসস্তূপের স্তূপ তৈরি হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—“আল্লাহ আমাদের দেশকে সব ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ৫০ হাজারের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী সিরিয়ায় আরও ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়। বিধ্বংসী সেই ভূমিকম্পের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি।
সুত্রঃ বিবিসি