অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ট্রেনের শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট-
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের ফলে ঢাকার সঙ্গে রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের রেল যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয় প্রান্তে ছয়টি ট্রেন আটকা পড়েছে—যার মধ্যে পাঁচটি যাত্রীবাহী ও একটি মালবাহী ট্রেন রয়েছে। এতে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, অবরোধের কারণে আটকে থাকা ট্রেনগুলো হলো—শরৎনগর স্টেশনে চিলাহাটিগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস, লাহিড়ী মোহনপুরে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইলে দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস, জামতৈলে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, ইব্রাহিমাবাদে রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস এবং চাটমোহরে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, তবে অবরোধ তুলে নিলে ট্রেন দেরি হলেও শিডিউল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে গত ১০ আগস্ট হাটিকুমরুল গোলচত্বরে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে সময়সীমা শেষে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এবার রেল অবরোধে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার আট বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু হয়নি, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দাবি, ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা ঘরে ফিরবেন না।
উল্লেখ্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার নয় বছরেও ডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। চলতি বছরের ১৯ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত একটানা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালানো হয়, যা সরকারের প্রতিশ্রুতির পর স্থগিত হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বয়কট করে পুনরায় আন্দোলন শুরু হয়, যা বর্তমানে রেল অবরোধে রূপ নিয়েছে।