গাজাভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন বাহিনী হামাস। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- ইসরায়েলের সঙ্গে ৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। নতুন এই চুক্তিতে গাজায় হামাসের হাতে থাকা অর্ধেক জিম্মি ফেরত দেওয়া এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তির শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সোমবার মিসরীয় সরকারি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘গাজা যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থাপিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে হামাস।’’
এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মিসরের সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ৬০ দিনের জন্য স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি সামগ্রিক চুক্তির পথ তৈরির রূপরেখাও এই প্রস্তাবে যুক্ত রয়েছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দেওয়া আগের প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন এই প্রস্তাবের মিল রয়েছে। ইসরায়েল ইতিপূর্বে উইটকফের সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।
এদিকে গাজা নগরীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইসরায়েলের পরিকল্পনা দেশটির অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধের অবসানের দাবিতে রোববার ইসরায়েলে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় বন্দি থাকা অবশিষ্ট ৫০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করার দাবি জানান। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, বর্তমানে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ২৯ জন এখনও জীবিত আছেন।
গাজা নগরীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের সম্ভাব্য অভিযানের কারণে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই গাজার পূর্বাঞ্চলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে গাজার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। যদিও সেসব অঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী টানা গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স