সর্বশেষ

শিল্পের স্বাধীনতা বনাম কালচারাল ফ্যাসিবাদ

  • 7:23 am - August 31, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৭ বার
কবি সাম্য রাইয়ান। গ্রাফিক্সঃ ওটিএন বাংলা

কালচারাল ফ্যাসিস্ট প্রসঙ্গটি কেবল আমাদের স্থানীয় অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং এটি এক আন্তর্জাতিক বাস্তবতা। ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য বৈধতা হারায়, তখন তারা সংস্কৃতির দিকে হাত বাড়ায়। মুসোলিনি থেকে হিটলার পর্যন্ত-সবারই এক অভিন্ন নীতি ছিল: শিল্প হবে রাষ্ট্রের সেবক, সাহিত্য হবে শাসকের প্রশংসা গান। জার্মানিতে নাৎসি শাসন কবি ও শিল্পীদের ‘ডিজেনারেট’ বলে চিহ্নিত করেছিল, তাদের বই আগুনে পোড়ানো হয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে, কালচারাল ফ্যাসিস্টের মূল হাতিয়ার হলো বৈচিত্র্যের ধ্বংস। তারা শিল্পকে যেভাবে কেটে-ছেঁটে ফেলে, তাতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। কিন্তু শিল্প-সাহিত্য এক ধরনের অরণ্যের মতো—যেখানে একই সঙ্গে অশ্বত্থ, বট, নিম আর কাশফুল বেড়ে ওঠে। কালচারাল ফ্যাসিস্ট চায় না এই বৈচিত্র্য, তারা চায় সমতল মাঠ, যেখানে কেবল তাদের রোপণ করা গাছ থাকবে।

আজকের পৃথিবীতেও এই প্রবণতা থেমে নেই। পাশ্চাত্যে ‘কালচারাল ওয়ার’ নামে নতুন এক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। বই নিষিদ্ধকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য পরিবর্তন, ‘অপছন্দের শিল্প’ বাতিল করা—এসবের ভেতরেও কালচারাল ফ্যাসিবাদের রেশ পাওয়া যায়। আমাদের দেশেও দেখা যায়—কোনো নাটক মঞ্চস্থ হতে না দেওয়া, কোনো গানকে ‘অপসংস্কৃতি’ ঘোষণা করা, কিংবা কোনো লেখককে চুপ করিয়ে দেওয়া। এগুলো সব একই ধারার অংশ।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ষড়যন্ত্রমূলক উল্টোপথে নাম দেওয়া। অনেক সময় প্রকৃত কালচারাল ফ্যাসিস্টরাই তাদের সমালোচকদের ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ বলে চিহ্নিত করে। ফলে যে ব্যক্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য লড়ছে, তাকেই অভিযুক্ত করা হয় দমননীতির দায়ে। এই বিভ্রান্তি পরিকল্পিত, যাতে মানুষ আর প্রকৃত শত্রুকে চিনতে না পারে। ঠিক যেমন রাজনীতিতে ভুয়া অভিযোগ ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করা হয়, সংস্কৃতিতেও একই কৌশল ব্যবহৃত হয়।

তাই আমাদের দায়িত্ব হলো দ্বিগুণ সতর্ক হওয়া। একদিকে আমাদের প্রতিরোধ গড়তে হবে সেই শক্তির বিরুদ্ধে, যারা সংস্কৃতিকে বন্দি করতে চায়। অন্যদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যেন ভুল মানুষকে কালচারাল ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া না হয়। ভুল আঙুল তোলা মানে আসল বিপদের পথ খুলে দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি আমাদের মুক্তির জায়গা, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে গান গায়, কবিতা লেখে, নাটক মঞ্চস্থ করে, গল্প শোনায়। কালচারাল ফ্যাসিস্ট চায় সেই স্বাধীনতার মৃত্যু। তাই তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে কেবল শিল্পের পক্ষে দাঁড়ানো নয়, বরং মানবমুক্তির পক্ষে দাঁড়ানো।

লেখক- কবি-প্রাবন্ধিক ও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক।

এই শাখার আরও খবর

চীনে এমবাপেকে ঘিরে বিতর্ক, স্পনসর হারানোর শঙ্কা

ফুটবল মাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ব্যক্তিগত অর্জনে হতাশা নিয়ে ফিরেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তবে মাঠের বাইরের এক বিতর্কে এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে…

জাতীয় গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন বা পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ কাজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে গ্রিডের সব সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্র চালু…

বেন ক্যারলকে ‘ভীতু’ বলল লিবারেল, উইলসনকে কটাক্ষ ওয়ান নেশনের

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ওয়ান নেশন পার্টির নেতাকে বিতর্কে রাখার…

সিডনিতে বাড়িতে আগুন, ৮৮ বছর বয়সী নারীকে উদ্ধার প্রতিবেশীর, মুখোশধারী ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্বিতীয় তলার বারান্দায় আটকে পড়া ৮৮ বছর বয়সী এক নারীকে পুলিশ ও এক প্রতিবেশী মিলে উদ্ধার করেছেন। আগুন লাগানোর ঘটনায়…

‘নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে’

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায়…

নতুন ভূমিকায় সানিয়া মির্জা, লড়ছেন নির্বাচনে

টেনিস কোর্টে একাধিক সাফল্যের পর এবার ক্রীড়া প্রশাসনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার বিশেষ ক্রীড়াব্যক্তিত্ব প্রতিনিধি…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au