লিড নিউজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রাধান্য পাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রসঙ্গ

  • 6:10 pm - September 19, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৮৬ বার
প্রায় ১৪০ জন বিশ্বনেতা সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে অংশ নেবেন।ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর- আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন। বিশ্বের ১৪০ জনেরও বেশি রাষ্ট্রনেতা অংশ নেবেন এ বৈঠকে, যার মূল আলোচ্য বিষয় হবে ফিলিস্তিন ও গাজার ভবিষ্যৎ।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবার সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না। ওয়াশিংটন তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সাধারণ পরিষদ আজ শুক্রবার ভোটাভুটি করবে, আব্বাসকে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না।

আসন্ন অধিবেশনে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংকটের ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান’ প্রশ্নে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবে এসব বৈঠকে। লক্ষ্য হলো, দুই পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা।
গত সপ্তাহে সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান মনে করেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া আপাতত ‘প্রতীকী’ পদক্ষেপ। তবে স্বীকৃতি–পরবর্তী সময়ে দেশগুলো যদি ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গাজায় আগ্রাসন থামাতে, তবেই তা বাস্তব প্রভাব ফেলবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল এ স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, তাঁর মেয়াদকালে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ে উঠবে না।

ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে। আব্বাসের প্রতিনিধিদলকে ভিসা না দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বৈদেশিক সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। এতে জাতিসংঘের নানা সংস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

এই সময়ে জাতিসংঘ তার ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে নীরবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানুষ এখন কার্যকর পদক্ষেপ চায়। তিনি গাজা, ইউক্রেন, সুদান ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক ফেদেরিকো বোরেলো সতর্ক করে বলেছেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা এখন অস্তিত্ব সংকটে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত হয়, তখন আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন দুর্বল হয়ে পড়ে।

অধিবেশনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও গুরুত্বসহকারে আলোচনা হবে। সেপ্টেম্বরে তেহরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। এছাড়া গুতেরেস ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা যৌথভাবে একটি জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করবেন, যেখানে নতুন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ হতে পারে।

এবারের অধিবেশনে বিশেষ নজর থাকবে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার দিকে। এক বছর আগে তিনি বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

ভক্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মহিমায় সিডনিতে দর্পণের শারদীয় দুর্গোৎসব

শতদল তালুকদার, সিডনি- শরতের স্নিগ্ধ আবহ, দেবীবন্দনার পবিত্র অনুরণন আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের আবাহনে সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দর্পণ কালচারাল অ্যান্ড রিলিজিয়াস…

কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা

কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au