ভয়াবহ বন্যার পর বালিতে নতুন হোটেল ও রেস্তোরাঁ নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা ছবিঃ © AFP/Getty
মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর কৃষিজমিতে নতুন পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
এই মাসের শুরুর দিকে বন্যায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পাহাড়ি গ্রামে কাদামাটি ও পাথর নেমে আসে, নদীর পানি বাড়তে বাড়তে ১১২টি পাড়া ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বহু স্থানে ভূমিধস ঘটে। স্থানীয়রা এবং কর্মকর্তারা হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণের অতি দ্রুত বিস্তারকে এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ হেক্টর ধানক্ষেত ও সবুজ জমি নষ্ট হচ্ছে, যা ইউনেস্কো স্বীকৃত শতাব্দী প্রাচীন সুবাক সেচব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি।
রবিবার বালির গভর্নর ওয়ায়ান কোস্টার ঘোষণা দেন:
এ বছর থেকে আর কোনও উর্বর কৃষিজমিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রূপান্তর করা যাবে না। হোটেল, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য স্থাপনার জন্য নতুন অনুমতি প্রদান বন্ধ থাকবে।
বালি ২০২৫ সালে রেকর্ড ভাঙা পর্যটন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ বছর প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে দুই মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান। গড়ে প্রতিদিন ২১ থেকে ২২ হাজার পর্যটক বালিতে পৌঁছান। তবে এ পর্যটন চাপ দ্বীপের কৃষিজমি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
মৌসুমি বৃষ্টিপাতে (সেপ্টেম্বর-মার্চ) প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস হয়। ধানক্ষেত ও বনভূমি প্রাকৃতিক স্পঞ্জের মতো পানি শোষণ করে নদীতে অতিরিক্ত পানি যাওয়া ঠেকায়। কিন্তু অতিরিক্ত নির্মাণ প্রকল্পের ফলে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, সমুদ্রতীর, নদীর ধারে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম ভেঙে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং দ্বীপের একমাত্র সুউং ল্যান্ডফিল বন্ধ করে দেওয়াও বন্যা পরিস্থিতি জটিল করেছে।
স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন:
“বালি শেষ স্বর্গ, তবে যেন তা হারিয়ে যাওয়া স্বর্গে পরিণত না হয়,” মন্তব্য করেছেন এক ইনফ্লুয়েন্সার।
ইন্দোনেশিয়ার হোটেল ও রেস্তোরাঁ সমিতির বাডুং শাখাও এ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছে। সংগঠনের প্রতিনিধি ই গুস্তি আগুং নুরাহ রাই সুরিয়াবিজয়া বলেছেন:
স্বল্পমেয়াদে নতুন হোটেল বা ভিলা নির্মাণ কমে যেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সংরক্ষণে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বালির প্রকৃত সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মূল প্রতিবেদন: ক্যাটলিন পাওয়েল (সংবাদদাতা) ও ক্যামেরন কার্পেন্টার (উপ-বার্তা সম্পাদক, অস্ট্রেলিয়া- ডেইলি মেইল ইউকে)
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৯ (AEST)