ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে…
মেলবোর্ন, ১ জুলাই: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই রায় ঘোষণা করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কিছু প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়, যেখানে অন্য কয়েকটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত এবং পাঁচটি প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কিত বিষয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই ফলাফল আইনগত কাঠামোর ভেতরেই এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো উল্লেখ করছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দেন ইনু। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, পরদিন ১৯শে জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। ওই বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার একটি তালিকা প্রস্তুত করা এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দিতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করা হয়। আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং ছত্রীসেনা মোতায়েন করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। চতুর্থ অভিযোগ- এতে বলা হয়, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং ছত্রীসেনা মোতায়েন করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ নির্যাতন–নিপীড়নের কার্যক্রমকে কৌশলে সমর্থন করার কথা উল্লেখ করা হয়। ষষ্ঠ অভিযোগ- ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের একটি সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, একই বছরের ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে কারফিউ ও গুলি চালানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া হয় এবং দলীয় নেতাদের তা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়। অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতা আহত হওয়ার ঘটনায় নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্পাদক: ড. প্রদীপ রায়, মেলবোর্ন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au