মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
মেলবোর্ন,৩০ জুন- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে…
মেলবোর্ন,৩০ জুন- চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে প্যারাগুয়ে। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি। এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে দেশজুড়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্যারাগুয়েকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি অনেকেই। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের আত্মবিশ্বাস নিয়েই ম্যাচে নামে দলটি। কোচের সেই আত্মবিশ্বাস মাঠেও প্রতিফলিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস রচনা করে প্যারাগুয়ে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা এক ঘোষণায় বলেন, ‘জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জুনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হলো।’ তার এই ঘোষণার পর দেশজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল। টাইব্রেকারে জার্মানির প্রথম শট নিতে আসা কাই হাভার্টজের পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর জার্মানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শটও প্রতিহত করে দলের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ওরল্যান্ডো গিল বলেন, ‘এই জয় প্রমাণ করে খুব দ্রুত কোনো দলকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। প্যারাগুয়ে যে বড় কিছু অর্জন করতে পারে, আজ আমরা সেটিই দেখিয়েছি। এই মুহূর্তের জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করেছি।’
টাইব্রেকারের চাপের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা যেন একটা ভৌতিক সিনেমার মতো ছিল। জার্মান খেলোয়াড়রা চারদিক থেকেই আক্রমণ করছিল। এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা জিতে গেছি।’
জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের প্রশংসা করতেও ভোলেননি গিল। তিনি বলেন, ‘নয়্যার বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। তার বিপক্ষে শুটআউটে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের। তিনি একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়েছেন। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
পরিসংখ্যানেও ম্যাচে ছিল জার্মানির স্পষ্ট আধিপত্য। বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। গোলের উদ্দেশ্যে জার্মানি মোট ২১টি শট নেয়, যেখানে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র ৭টি। তবে দৃঢ় রক্ষণ, গোলরক্ষক গিলের অসাধারণ নৈপুণ্য এবং টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে নেওয়ার সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি এনে দেয় প্যারাগুয়েকে।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আরও বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছে প্যারাগুয়ে। তবে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে দলটি যে বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে আর কোনো সন্দেহ নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au