মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- ছয় দিনের বিরতির পর আবারও সম্প্রচারে ফিরছে জনপ্রিয় মার্কিন রাতের কৌতুক অনুষ্ঠান ‘জিমি কিমেল লাইভ’। অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়েছিল উপস্থাপক জিমি কিমেলের কিছু মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কারণে।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রচারিত এক পর্বে জিমি কিমেল মন্তব্য করেন যে, “মাগা (MAGA) গ্যাং চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।” এ ছাড়া ওই পর্বে তাঁর আরও কয়েকটি বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহল ও ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
এমনকি ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কারও কিমেলকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলেন, তিনি “সবচেয়ে অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এবিসি নেটওয়ার্ক অনুষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং কিমেলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তকে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে নতি স্বীকার হিসেবে দেখেছিলেন।
অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এবিসির পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও দেন।
তবে সোমবার ডিজনির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘জিমি কিমেল লাইভ’ আবারও সম্প্রচারে ফিরছে।
ডিজনি জানায়, দেশের আবেগময় পরিস্থিতিতে উত্তেজনা না বাড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছিল। কিমেলের কিছু মন্তব্যকে তখন “সংবেদনশীল ও অসময়ে বলা” মনে হয়েছিল। তবে কয়েক দিনের আলোচনা শেষে অনুষ্ঠান পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিজনির সিইও বব আইগার এবং ডিজনি এন্টারটেইনমেন্টের সহপ্রধান ডানা ওয়ালডেন সম্প্রতি কিমেলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা জানান, এ সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপের কারণে নয়, বরং সংস্থার বিনোদনমূলক স্বার্থের কথা ভেবেই নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিত তাঁর সমালোচনাকারী সংবাদমাধ্যম ও টক শোগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন।
আজকের পর্বেই জিমি কিমেল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মিটমাট করার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিমেল বা তাঁর প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
ছয় দিনের বিরতির পর এবিসি-ডিজনির এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম স্বাধীনতা বনাম রাজনৈতিক প্রভাবের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
সুত্রঃ রয়টার্স