মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- ইরান এ বছর (২০২৫) এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। সংস্থাটি একে ইরানি কারাগারে চলমান “গণহত্যা অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
শুধু গত এক সপ্তাহেই অন্তত ৬৪ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে—গড়ে প্রতিদিন ৯ জনের বেশি।২০২৫ সালের এখনো তিন মাসের বেশি সময় বাকি থাকতেই মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ।গত বছর রেকর্ড হওয়া ৯৭৫ মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে এ বছর।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল ইরান। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বর্তমানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০২২-২০২৩ সালের দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং চলতি বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর এ প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে।
আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কারাগারগুলোতে একটি গণহত্যা অভিযান চলছে। গুরুতর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া না থাকায় এটি প্রতিদিনই বিস্তৃত হচ্ছে।”
তিনি মৃত্যুদণ্ডগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যেকোনো আলোচনায় এই সংকট অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।সেখানে পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মূল আলোচ্য বিষয় হলেও, আইএইচআর মনে করে মৃত্যুদণ্ডের সংকটকে এজেন্ডার শীর্ষে রাখা উচিত।
আইএইচআর জানিয়েছে, সংবাদ পরিবেশনে কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে তাদের প্রকাশিত সংখ্যাগুলোই ন্যূনতম এবং প্রকৃত মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি : বর্তমানে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কেবল ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হচ্ছে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কারাগারের ভেতরে হয়, তবে মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যেও ফাঁসি দেওয়া হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী: চীনের পর ইরান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ।চীন প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বলে ধারণা করা হলেও সঠিক সংখ্যা জানা যায় না।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া ইরানে এই মৃত্যুদণ্ডের প্রবণতা আরও বাড়বে।
সুত্রঃ এএফপি