মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই প্রস্তাব দেন।
২০১০ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি স্বাক্ষর করে, যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। চুক্তির বর্তমান মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এটি একবার পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর সুযোগ ছিল, যা ২০২১ সালে পুতিন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কার্যকর করেছিলেন। ফলে নিউ স্টার্ট বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, “পুতিনের প্রস্তাবটি খুবই ভালো শোনাচ্ছে।” তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুতিন জানিয়েছেন, নিউ স্টার্টের অধীনে নির্ধারিত সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতাগুলো ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির পরও রাশিয়া এক বছরের জন্য বজায় রাখতে প্রস্তুত। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এই স্বেচ্ছায় আরোপিত সীমাবদ্ধতা চালু থাকবে কি না।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশকে তাদের মোতায়েনকৃত কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড ১ হাজার ৫৫০–এর মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন এবং বোমারু বিমানসহ ডেলিভারি ভেহিকল ৭০০-এর মধ্যে রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চুক্তি শেষ হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া উভয়ই নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে পারে।
পুতিনের দাবি, তার প্রস্তাব বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহায়ক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এ পদক্ষেপ তখনই কার্যকর হবে যদি যুক্তরাষ্ট্রও সমানভাবে সহযোগিতা করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট না করে।
প্রস্তাবটি এসেছে এমন এক সময়ে যখন ইউক্রেন ওয়াশিংটনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ফলে পুতিনের এই প্রস্তাবকে অনেকেই রাশিয়ার অবস্থানে একতরফা পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
সুত্রঃ রয়টার্স