সর্বশেষ

ইন্দোনেশিয়ায় ধসে পড়া বোর্ডিং স্কুলের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও মিলছে লাশ

  • 2:52 pm - October 06, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১০২ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন,৬ অক্টোবর- ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভবনধসে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বোর্ডিং স্কুলের ভবন ধসে পড়ে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা তিন দিন পরও সেখানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটেছে সুবাং অঞ্চলের একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে। রাতে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের কারণে স্কুলের প্রধান ভবনটি হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেক মানুষ জীবিত থাকতে পারেন বলে তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে খননকাজ চালাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি হাতে চালানো সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে কোনো সম্ভাব্য বেঁচে থাকা ব্যক্তির ক্ষতি না হয়। এক উদ্ধারকর্মী বলেন, “প্রতিটি ইট সরানোর সঙ্গে আমরা প্রার্থনা করছি যেন কেউ জীবিত পাওয়া যায়।”

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র রাধিয়া নাসর বলেন, “ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। আমরা আশপাশের এলাকাও খুঁজে দেখছি, কারণ প্রবল বৃষ্টির কারণে কিছু লাশ হয়তো বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।”

দুর্যোগে আহত হয়ে অন্তত ৬৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের অধিকাংশেরই হাত-পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাত লেগেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রক্তের সংকট দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নেবে।”

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্কুল ভবনটির নির্মাণ মান খুবই নিম্নমানের ছিল এবং সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে মাটি দেবে যাওয়ায় ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় এমন ভবন নির্মাণে শক্তিশালী কাঠামো ও সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকের খোঁজ না মেলায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর বয়সী ছাত্রছাত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করতে সারারাত ধরে মশাল জ্বালিয়ে অনুসন্ধানে অংশ নিচ্ছেন।

দুর্যোগটি ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুল ভবনধসের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে।

সূত্র : রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

ফেসবুকে ঢাকা দখলের ডাক, কে এই ছাত্রলীগ নেতা?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ‘ঢাকা দখলের’ ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। তাঁর নাম আসাদ মোল্লা (৩০)।…

আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, কাভার্ডভ্যানে আগুন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া এ…

মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। কুকি ও নাগা…

সুইডিশ দূতাবাসে শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ

ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করেছে। এখন থেকে শেনজেন ভিসা, আমন্ত্রণপত্র, আপিল এবং আবেদনসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সহায়তার জন্য সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন…

ঋণের চাপে ট্রেনের নিচে ব্যবসায়ী, চিরকুটে লিখে গেলেন ‘সুদখোর’দের নাম

গাইবান্ধায় আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল (৫২) নামে এক চা পাতার ব্যবসায়ীর ট্রেনে কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। তার হাতে পাওয়া একটি চিরকুটে নিজের মৃত্যুর…

পটুয়াখালীতে কাফনের কাপড় পরে মুক্তিযোদ্ধার আমরণ অনশন

নিজের বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, বাড়িতে হামলার বিচার এবং বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বীর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au