রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…
মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- গাজীপুরের টঙ্গী বিটিসিএল কলোনি জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মোহিব্বুল্লাহ মিয়াজীকে অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার নিশ্চিত প্রমাণ পায়নি পুলিশ। শনিবার বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
জিএমপি জানায়, এই ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় ইতিমধ্যে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। একজন প্রবীণ আলেমকে অপহরণের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মামলা রুজুর আগেই অনুসন্ধান শুরু করে। তবে তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে ইসকনসহ কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে দায়ী করার মতো সন্দেহাতীত প্রমাণ মেলেনি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী না করতে এবং ধৈর্য ধরতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কাজে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানানো হয়।
এর আগে, বুধবার রাতে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড়ের একটি গ্রামীণ এলাকায় মুফতি মোহিব্বুল্লাহকে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে একটি কলাগাছের সঙ্গে দুই পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গাজীপুরের টঙ্গী বিটিসিএল কলোনি জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুহিবুল্লাহ মিয়াজী (৬৫) নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড়ে উদ্ধার হন। ছবিঃ সংগৃহীত
হাসপাতালে তিনি জানান, বাসা থেকে হাঁটার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে চার-পাঁচজন লোক নেমে জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। অপহরণকারীদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে তারা বাংলাদেশি নন, তবে তারা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলছিলেন। তার চোখ বেঁধে মারধর করা হয়, পুরোনো অস্ত্রোপচারের জায়গায় আঘাত করা হয় এবং মাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা।
তিনি আরও জানান, গত ১১ মাস ধরে তিনি বেনামি হুমকিপূর্ণ চিঠি পাচ্ছিলেন। এসব চিঠিতে ইসকনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, অখণ্ড ভারত সমর্থন এবং ইসলাম ও কোরআন নিয়ে বক্তব্য না দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
এই ঘটনার পর পঞ্চগড়ে ‘ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটি’ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলে। তবে তারা ইসকনের সম্পৃক্ততার কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, অপহরণে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে তদন্ত করলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।
এদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ইসকনের ওপর দায় চাপানো ইসলামপন্থি কিছু সংগঠনের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হতে পারে। তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত না করে ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেওয়া হলে তা পরিস্থিতি আরও জটিল করবে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ থেকে ‘ইসকন নিষিদ্ধের’ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ‘ইন্তিফাদা বাংলাদেশ’ বড় সমাবেশ করে। কামরাঙ্গীরচর, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট ও জিগাতলাতেও একই দাবিতে মিছিল হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে হেফাজতের বিক্ষোভ। ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে হেফাজতে ইসলাম সমাবেশ করে। গাজীপুরের কাপাসিয়া, পঞ্চগড়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, সৈয়দপুর, সিলেট, ভোলার চরফ্যাসন, মানিকছড়িসহ দেশজুড়ে একই ধরনের কর্মসূচি দেখা যায়।
ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেছেন, তারা শান্তিপূর্ণ ধর্মচর্চা ও মানবিক কাজে নিয়োজিত। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং সম্প্রীতি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি মনে করে কোনো অভিযোগের সত্যতা আছে, তাহলে তা তদন্ত করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au