মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- বড় দুই প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে চীনের সরাসরি বাণিজ্য ও যাত্রীফ্লাইট পুনরায় শুরু হলো। রবিবার রাতে ইন্ডিগো (IndiGo) কোম্পানির কলকাতা–গুয়াংজৌ নন-স্টপ ফ্লাইটটি কলকাতা থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজৌ পৌঁছালে এই রুটগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার কথা নিশ্চিত হয়।
সরকারি ও বেসরকারি সূত্র অনুযায়ী, করোনা মহামারির ফলে ২০২০ সালে বন্ধ হওয়া ওই সরাসরি রুটগুলির স্থগিতাদেশ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বজায় ছিল; এছাড়া ২০২০ সালের লাদাখ সীমান্ত সংঘর্ষ ও দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনাও বাতাসের যোগাযোগে দীর্ঘ বিরতি দেয়। সম্প্রতি দুই দেশের কূটনৈতিক সংলাপ ও শীর্ষ পর্যায়ের সাক্ষাতের পর ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের অংশ হিসেবে রুটগুলো খুলে দেওয়া হলো।
ইন্ডিগোর কলকাতা–গুয়াংজৌ ফ্লাইট (৬E১৭০৩) রবিবার রাতে যাত্রা করে এবং সোমবার ভোরে গন্তব্যে পৌঁছায়; প্রাথমিকভাবে এটি দৈনিক অপারেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডিগো দিল্লি–গুয়াংজৌ সরাসরি রুট ১০ নভেম্বর থেকে শুরু করবে বলে অ্যানাউন্স করেছে এবং চীনভিত্তিক চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স শ্যানহাই–দিল্লি রুট নভেম্বরে পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এসব ঘোষণা বাণিজ্য-পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াত বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া কেবল ভ্রমণ সহজ করবে না – এটি পণ্যপরিবহন, ব্যবসায়িক সফর, বাণিজ্য মিটিং ও শপিং-ট্যুরিজমকে দ্রুত ফিরিয়ে আনবে বলে বিমানবন্দর এবং বাণিজ্যিক মহলের প্রত্যাশা। গুয়াংজৌ দক্ষিণ চীনের একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র; কলকাতা ও পূর্ব ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সরাসরি সুযোগ বাড়াবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা দুদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ধীর সুস্থিকরণে একটি প্রতীকী ও ব্যবহারিক পদক্ষেপ।
তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকায়ন সহজ নয়। সীমান্ত সঙ্কট, বাণিজ্য ঘাটতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা-এসব বিষয় দ্বিপক্ষীয় আস্থা পুনর্গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া রুটগুলো বাণিজ্যিকভাবে স্থায়ী করার জন্য পর্যাপ্ত যাত্রী ও কার্গো লোডফ্যাক্টর বজায় রাখা প্রয়োজন। সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত কৌশলগত ও সুরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনাও চলমান থাকবে।
নতুন রুট পুনরায় চালু হওয়া রীতিমতো কূটনৈতিক ‘থাউ’ সমাধানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন এই উদ্যোগে অঞ্চলীয় শক্তি সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে, এবং প্রতিবেশী দেশগুলো তার প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পারে। অন্য দিকে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক, কারণ সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যয় ও সময় দুটোই কমায়।