সর্বশেষ

গাজার ধ্বংসস্তূপ সরাতে হুমকি ইসরায়েলের অবিস্ফোরিত বোমা

  • 8:25 pm - October 27, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১০২ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- গাজার বিভিন্ন অংশে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা অবিস্ফোরিত বোমা (Unexploded Ordnance   UXO) ও বিস্তর বিস্ফোরক অংশের হুমকির মুখে পড়ছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থা ও জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন এক্সপার্টরা সতর্ক করে বলছেন গাজা এমন একটি ‘‘অবিচিত্র, অনমানচিত্রিত মিনফিল্ড’’ পরিণত হয়েছে যা সাফ করতে বছর শত বছর সময় লাগতে পারে এবং তা মানুষের জীবন ও উদ্ধারকারী কাজকে নিয়ত বিপন্ন করছে।

স্বাস্থ্যবিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া সাম্প্রতিক খবর বলছে ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন বা খেলাধুলার জন্য পাওয়া বস্তুকে খেলনা ভেবে ছোঁয়ার ফলে শিশু ও বয়স্করাও গুরুতর আহত হচ্ছে। এক হৃদয়বিদারক উদাহরণে গাজার শহরাঞ্চলে দুই ৬ বছরের যমজ যাহ্যা ও নাবিলা ধ্বংসস্তূপে পাওয়া একটি বস্তুকে খেলনা ভাবায় বিস্ফোরণে গুরুতরভাবে আহত হয়; তাদের একটি বা দুটো হাত ও পায়ে মারাত্মক ক্ষত হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারে নেওয়া হয়েছে। এই ধরণের ঘটনাগুলো গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ঘটেছে।

জাতিসংঘ ও স্থানীয় মাইন-অ্যাকশন গ্রুপগুলো এখন পর্যন্ত সীমিত অপারেশন চালিয়ে কয়েকশ’টি অবিস্ফোরিত আইটেম উদ্ধার করেছে কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সংখ্যাটা মোট বিপদকে মাপা নয়। শত্রুতার এলাকা এবং ধ্বংসস্তূপের গভীরতায় প্রচুর বিস্ফোরক লুকিয়েই থাকতে পারে; কাঁটামাঠা মেশিন, ভারী যন্ত্রপাতি ও বিস্ফোরক নিষ্কাশন (EOD) সরঞ্জাম নেওয়া ছাড়া নিরাপদভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে, অনেক ক্ষেত্রেই ইহুদির ক্ষমতাধর কর্তৃপক্ষ নিয়মতান্ত্রিক অনুমতি প্রদান সীমিত রাখায় সাহায্যকারীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞদের প্রবেশে বাধার শিকার হচ্ছেন।

সহায়তাকারী সংস্থা Humanity & Inclusion-এর মুখপাত্র নিক অর (Nick Orr) বলেন, গাজার পৃষ্ঠ থেকে সমস্ত বোমা-খণ্ড সরাতে ২০–৩০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এটি কেবলমাত্র দৃশ্যমান ভূখণ্ডের হিসাব; ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও আগ্নেয়াশ্ম-বিস্ফোরকগুলো সম্পূর্ণ আলাদা উদ্বেগ। তিনি আরও জানান যে, নিরাপদ কার্যক্রম চালাতে হলে শুধু ডিটনেটর মহড়া নয় একটি সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত ও সুরক্ষিত গতি প্রয়োজন, যাতে EOD দলগুলো কাজ করতে পারে।

উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজকে আরো জটিল করা হচ্ছে – ক্রাশড ভবন, গর্ত-খোঁড়া এলাকা ও সঙ্কীর্ণ রাস্তাগুলোতে ৬০ মিলিয়ন টনের বেশি ধ্বংসস্তূপের নিচে শত শত সম্ভাব্য বিস্ফোরক লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আঞ্চলিক ও জাতিসংঘ বিশ্লেষণগুলো ইঙ্গিত করছে। মাইন অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (MAG) ও UNMAS-এর নির্দেশনায় শিশুসহ সবাইকে ধ্বংসস্তূপে ঘুরাঘুরি না করার অতি সতর্ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে; স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ পথ, রিং-ফ্যানসিং এবং EOD-দলের অপেক্ষায় থাকা পর্যন্ত কোনো ধ্বংসস্তূপ স্পর্শ করা উচিত নয়।

মানবিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও গভীর: অনেকে ঘর-মাল ফিরে পেতে চাইলেও অবিস্ফোরিত বোমার ভয়াবহতা জনসাধারণকে বাড়ি-ফেরা ও নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সাহায্যসংস্থা বলছে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞদের প্রবেশের অনুমোদন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং অত্যাধুনিক EOD উপকরণ ছাড়া কেবল মানবিক ত্রাণই যথেষ্ট নয়; তাৎপর্যপূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য বিস্তৃত, দায়িত্বশীল ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

যতদিন না প্রফেশনাল EOD দল এসে অনুমোদিতভাবে এলাকা পরীক্ষা করে, সাধারণ মানুষ ধ্বংসস্তূপ স্পর্শ করবেন না। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত ভিজিট পারমিশন ও ভারী সরঞ্জাম আনার অনুমতি দান করা উচিত অনুমতি ও নিরাপত্তা ছাড়া দ্রুত কাজ সম্ভব নয়। শিশুদের স্কুল ও কমিউনিটি-ক্লাসে বিস্ফোরক সাবধানতা সম্বন্ধে দ্রুত সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

সুত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে আদালতে পরীমনি-কাণ্ড, কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?

ভাস্কর দত্ত দেশে শ্রমিকদের আন্দোলন, বেতন-ভাতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় অংশের মনোযোগ কেড়ে…

ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করতে হতে পারে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করতে হতে পারে। এ বিষয়ে…

বেতন বাড়ানোর আশ্বাসেও থামেনি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ; বন্ধ শত শত কারখানা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা…

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতার ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে, এমনকি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি সরকারের পতনও হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।…

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি, গোপালগঞ্জে কী ঘটেছিল?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :  গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে…

ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী জয়ে ধাক্কা খেল এআই খাত, নাসডাকে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো নির্মাণে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায়…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au