রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ঢাকায় একটি সমাবেশ ও গণপদযাত্রার। আগের রাতে সাংবাদিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য। কিন্তু নির্ধারিত সময় এসে দেখা গেল মঞ্চ সাজানো, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো, তবু আয়োজকদের কোনো খোঁজ নেই।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশের রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। আয়োজক সংগঠন ‘জুলাই বিপ্লবী পরিষদ’ ব্যানারে অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল “জঙ্গি সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ৫ দফা ঘোষণা-সমাবেশ ও গণপদযাত্রা।” ব্যানারের নিচে বেশ কয়েকটি দাবিনামা ফেস্টুন সাজানো ছিল, কিন্তু উপস্থিত কেউই জানতেন না আয়োজকেরা কোথায়।
বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথা বলে ওটিএন বাংলা। তারা জানান, তাদের সকাল ১০টার দিকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তারা এসে দেখেন, জায়গাটি প্রায় ফাঁকা। ৫-৬ জন ব্যক্তি আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন, কিন্তু পুলিশ এসে তাদেরও সরে যেতে বলে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আয়োজকদের কাউকে দেখা না পেয়ে সাংবাদিকরা ফিরে যান।
একজন উপস্থিত সাংবাদিক বলেন, “আমাদের আগের রাতে জানানো হয়েছিল, বড় ধরনের পদযাত্রা হবে। কিন্তু সকাল ১১টা পার হলেও আয়োজকদের কাউকে দেখা যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি ছিল, তবে পরিস্থিতি শান্ত ছিল।”
এই সমাবেশের আয়োজন আসে টঙ্গীর খতিব মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজীর অপহরণের নাটক ফাঁস হওয়ার পরদিনই।
গাজীপুরের টঙ্গী টি অ্যান্ড টি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই নিজের অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পঞ্চগড়ে গিয়ে নিজেই নিজের পায়ে শিকল বেঁধেছিলেন এবং পরে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইসকনের ওপর দায় চাপিয়েছিলেন।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে টঙ্গী থানা পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ২টার দিকে ইসলামপন্থি দলের নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ফেসবুক লাইভে এসে জানান, মুফতি মুহিব্বুল্লাহ থানায় আটক অবস্থায় ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিজের সাজানো অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বলেন, “মুফতি সাহেব বলেছেন, তিনি নিজেই পুরো নাটক সাজিয়েছেন। তিনি আমাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন, থানা ঘেরাওসহ সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে।”
মুহিব্বুল্লাহর দাবি ছিল, ২২ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অপহরণ করা হয় এবং পরদিন পঞ্চগড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেই সময় তিনি একা হাঁটছিলেন, কোথাও কোনো অ্যাম্বুলেন্সের দেখা নেই। এমনকি তিনি যে সময়ের কথা বলেছেন, তার ১০ মিনিট পর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়নি।
তদন্তে জানা যায়, তিনি নিজের গাড়িতে করে টঙ্গী থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে পঞ্চগড়ে যান এবং সেখানে নিজেই নিজের পায়ে শিকল বেঁধে ‘অপহৃত’ অবস্থার দৃশ্য তৈরি করেন।
অপহরণের পর নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি করেছিলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ। কিন্তু পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, “তার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না, শুধু ব্যথার অভিযোগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।”
গাজীপুর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি নিজেই অপহরণের গল্প বানিয়েছেন। তার এই সাজানো নাটকের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করা।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিজের দায় স্বীকারের পর তার বিরুদ্ধে সাজানো অপহরণের মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যেকোনো সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টঙ্গী থানা ঘেরাওয়ের আহ্বান জানানো হলেও মুফতি মুহিব্বুল্লাহর অনুরোধের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। শাহবাগ ও টঙ্গী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au