আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩০ অক্টোবর- চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের দুর্যোগপ্রবণ জেলাগুলোর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বড় ধরনের খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছে। একই সময়ে ১৮টি জেলার প্রায় ১৬ লাখ শিশু চরম অপুষ্টির শিকার হতে পারে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের ৩৬ জেলার ৯ কোটি ৬৬ লাখের বেশি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের তিন সংস্থা- খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইউনিসেফ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন–মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয় ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি) প্রতিবেদন। এতে জানানো হয়, বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় শেষ আট মাসে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়বে। তবে সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
খাদ্যঘাটতি ও অপুষ্টির পরিস্থিতি পাঁচটি ধাপে মূল্যায়ন করা হয় ১. স্বাভাবিক, ২. চাপে থাকা, ৩. সংকটে থাকা, ৪. জরুরি অবস্থা, এবং ৫. দুর্ভিক্ষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান। তিনি বলেন, “আইপিসি প্রতিবেদনের সঙ্গে আমরা দ্বিমত করছি না। দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তবে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তা কমানোর চেষ্টা করছে।” তিনি জানান, মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্লেষণকৃত জেলাগুলোর ১৭ শতাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু পরিবর্তন, তহবিল সংকট, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং খাদ্যের বৈচিত্র্যহীনতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের মানুষ, বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি খাদ্যসংকটে পড়তে যাচ্ছেন। ওই জেলার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বেন। কক্সবাজার ও ভাসানচর মিলিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশ ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্যসংকট ও জরুরি অবস্থায় পড়ার ঝুঁকিতে আছে।
‘আইপিসি অ্যানালাইসিস রিপোর্ট অন দ্য অ্যাকিউট ফুড ইনসিকিউরিটি সিচুয়েশন, বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে ৩৬ জেলার মধ্যে ১৬ জেলার ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে ছিলেন। মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১৩ জেলার ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বেন। এসব জেলা হলো- বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বান্দরবান, রাঙামাটি, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে বাগেরহাট নতুন করে খাদ্যসংকটে পড়েছে। গত বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ২৪ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে ছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমেছে।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগকে খাদ্যসংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অপুষ্টি পরিস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১৮টি দুর্যোগপ্রবণ জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১৬ লাখ শিশু এবং ১ লাখ ১৭ হাজার অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারেন। কেবল কক্সবাজার ও ভাসানচরেই ৮১ হাজার শিশু ও ৫ হাজার মা তীব্র অপুষ্টির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, “জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রাণিসম্পদ এবং জলজ চাষব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখা যায়।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “খাদ্যসংকটের যে তথ্য উঠে এসেছে তা উদ্বেগজনক। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু স্কুলে যেতে পারে না, মনোযোগ দিতে পারে না। শিশুদের পুষ্টির দিকে নজর না দিলে বাংলাদেশ শক্ত অর্থনীতিতে দাঁড়াতে পারবে না।”
এফএও বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি ডিয়া সানৌ বলেন, “খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ জরুরি। সমস্যার মূল কারণ নির্ধারণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, “৩৬টি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তালহা জামাল। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান।
প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পুষ্টিসেবা জোরদার করা, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহায়তা বৃদ্ধি করা এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au